কঙ্গোর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটির পাঁচটি প্রদেশে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৮১ জনের শরীরে ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। রোগ শনাক্তে দেরি হওয়া, চলমান সংঘাত এবং দুর্বল স্বাস্থ্যসেবার কারণে এই ভাইরাস আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে।
এটি কঙ্গোর ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব; ভাইরাসটির বুন্ডিবুগিও ধরনের কারণে এই সংক্রমণ হচ্ছে। এই ধরনের চিকিৎসায় এখন পর্যন্ত অনুমোদিত কোনো টিকা বা ওষুধ নেই। ইতোমধ্যে প্রতিবেশী উগান্ডায়ও ইবোলার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) একে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে।
গত মাসে ‘সায়েন্স’ সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, ইতুরি প্রদেশে গত জানুয়ারি কিংবা তার আগে থেকেই এই সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করে। মধ্য জানুয়ারি থেকে ১৫ মে পর্যন্ত সময়ে ৫০০-এর বেশি সন্দেহভাজন রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট এবং সংঘাতপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তাহীনতার কারণে আক্রান্তদের শনাক্ত করা, আলাদা রাখা এবং সংক্রমণ ঠেকানোর কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
কঙ্গো সরকারের তথ্য বলছে, ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পশ্চিম আফ্রিকায় সবচেয়ে বড় ইবোলা প্রাদুর্ভাবের সময় গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনে ২৮ হাজার ৬১৬ জন আক্রান্ত হয়ে ১১ হাজার ৩১০ জন মারা গিয়েছিলেন। ওই প্রাদুর্ভাবে এক হাজার মৃত্যুর সংখ্যা ছুঁতে সময় লেগেছিল প্রায় পাঁচ মাস। কিন্তু কঙ্গোর বর্তমান প্রাদুর্ভাবে তিন মাসেরও কম সময়ে দুই হাজার মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
এ ছাড়া ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত কঙ্গোর ইবোলা প্রাদুর্ভাবে দুই হাজার মৃত্যু ছুঁতে সময় লেগেছিল ১২ মাসেরও বেশি। কিন্তু বর্তমান প্রাদুর্ভাবে এক হাজার থেকে দুই হাজারে পৌঁছাতে সময় লেগেছে এক মাসেরও কম, যা ভাইরাসটির ভয়াবহ দ্রুত বিস্তারকেই স্পষ্ট করছে।





