প্যাসিফিক ফোরামে তাইওয়ান ইস্যুতে ‘এক-চীন নীতি’ মানার আহ্বান বেইজিংয়ের

চীন ও তাইওয়ানের পতাকার সামনে রাখা একটি যুদ্ধজাহাজের প্রতিকৃতি
বিদেশে এখন
0

আগামী মাসে পালাউতে অনুষ্ঠেয় প্যাসিফিক আইল্যান্ডস ফোরামের (পিআইএফ) বার্ষিক সম্মেলনে তাইওয়ান অংশ নেবে বলে সংস্থাটির মহাসচিব ঘোষণা দেয়ার পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। আজ (মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট) বেইজিং ফোরামটিকে ‘এক-চীন নীতি মেনে চলার’ এবং ‘তাইওয়ান-সংক্রান্ত বিষয়গুলো যথাযথভাবে সামাল দেয়ার’ আহ্বান জানিয়েছে। আনাদোলুর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যক্রমে তাইওয়ানের অংশগ্রহণ অবশ্যই এক-চীন নীতির আওতায় হতে হবে। এটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২৭৫৮ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে নিশ্চিত আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি মৌলিক রীতি এবং এই বিষয়ে ব্যাপক আন্তর্জাতিক ঐকমত্য রয়েছে।’ চীন-প্যাসিফিক আইল্যান্ডস ফোরামের সুস্থ ও সুস্থিতিশীল সম্পর্কে যাতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সে জন্য ফোরাম সচিবালয়কে এক-চীন নীতি মেনে চলার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

তাইওয়ান নিউজের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ফোরামের মহাসচিব ব্যারন ওয়াকা গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, আগামী ৩০ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় এই সম্মেলনে তাইওয়ানের একজন কর্মকর্তা অংশ নেবেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সাল থেকে তাইওয়ান এই ফোরামের ‘উন্নয়ন অংশীদার’ মর্যাদা পেয়ে আসছে। তবে গত বছর সম্মেলনের আয়োজক সলোমন দ্বীপপুঞ্জ তাইপেকে আমন্ত্রণ জানায়নি, বরং সেখানে চীন উপস্থিত ছিল।

পিআইএফের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, কিরিবাতি ও নাউরু বিভিন্ন সময়ে তাইপে থেকে সরে গিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়েছে। সর্বশেষ নাউরু ২০২৪ সালে তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। এর ফলে তাইওয়ানের কূটনৈতিক মিত্রের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১২টি দেশে।

প্যাসিফিক আইল্যান্ডস ফোরামে বর্তমানে ১৮টি সদস্য রয়েছে। এগুলো হলো অস্ট্রেলিয়া, কুক আইল্যান্ডস, ফেডারেটেড স্টেটস অব মাইক্রোনেশিয়া, ফিজি, ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়া, কিরিবাতি, নাউরু, নিউ ক্যালেডোনিয়া, নিউজিল্যান্ড, নিউয়ে, পালাউ, পাপুয়া নিউগিনি, প্রজাতন্ত্র মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, সামোয়া, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, টোঙ্গা, তুভালু এবং ভানুয়াতু। এদের মধ্যে পালাউ, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ ও তুভালু তাইওয়ানের অল্প কয়েকটি মিত্র দেশের অন্যতম। চীন তাইওয়ানকে তাদের ‘বিচ্ছিন্ন’ প্রদেশ হিসেবে বিবেচনা করে, তবে তাইপে নিজেদের স্বাধীন সত্তা হিসেবে দাবি করে আসছে।

এএম