ইয়েমেনের কোস্টগার্ড জানিয়েছে, বাব-এল-মান্দেবের ওই হামলায় হুতি-বিরোধী একটি সামরিক গোষ্ঠীর দুই উদ্ধারকর্মীও নিহত হয়েছেন। ইরান যুদ্ধ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়ার পর থেকে হুতিদের হামলায় জাহাজে এটিই প্রথম প্রাণহানির ঘটনা। মিসরের মালিকানাধীন ‘তিহামা’ নামের ওই জাহাজে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
পরে হুতিরাও বাব-এল-মান্দেবে একটি জাহাজে হামলার কথা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ওই জাহাজটি সৌদি সামরিক সরঞ্জাম বহন করছিল। তবে তারা জাহাজটির নাম প্রকাশ করেনি। সৌদি সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিকেশন এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ব্রিটিশ নৌবাহিনী-সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইউকেএমটিও-ও প্রণালিতে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্রে একটি জাহাজে আঘাত হানার কথা জানিয়েছে।
ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার পর ক্রুরা জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন, নিহতদের মধ্যে তিনজন পাকিস্তানি নাগরিক। এ ছাড়া একজন ইন্দোনেশীয় নাগরিকও নিহত হয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হুতিরা দ্বিতীয় দফা হামলা চালায়। এতে হুতিবিরোধী ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের (এনআরএফ) দুই উদ্ধারকর্মী প্রাণ হারান। কোস্টগার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় সাতজন ক্রু, দুই কোস্টগার্ড সদস্য এবং একজন এনআরএফ সদস্যসহ মোট ১০ জন আহত হয়েছেন।
গত ২০ জুলাই লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ ঘোষণা করেছিল হুতিরা। তাদের দাবি, সৌদি অবরোধের জবাবেই এই পদক্ষেপ। যদিও রিয়াদ ইয়েমেনকে অবরুদ্ধ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ওমান উপসাগরে মার্কিন হামলা
অন্যদিকে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ওমান উপসাগর থেকে ইরানি বন্দরের দিকে যাওয়ার সময় পানামার পতাকাবাহী ‘ভেলা নোভা’ নামের একটি কনটেইনার জাহাজে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এতে জাহাজটির স্টিয়ারিং গিয়ার অকেজো হয়ে যায়। ইরানি বন্দরে চলাচলের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ লঙ্ঘন বন্ধের বারবার সতর্কবার্তা জাহাজটি উপেক্ষা করছিল বলে অভিযোগ। গত এপ্রিলে অবরোধ ঘোষণার পর এটি হলো ইউএস বাহিনীর হামলার শিকার ১২তম জাহাজ এবং ১৪ জুলাই নতুন করে অবরোধ কার্যকরের পর তৃতীয়।
ইরানি ট্যাংকার চলাচল পর্যবেক্ষণকারী মার্কিন সংস্থা ‘ইউনাইটেড অ্যাগেইনস্ট নিউক্লিয়ার ইরান’-এর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা চার্লি ব্রাউন জানিয়েছেন, ভেলা নোভা সম্প্রতি মুম্বাই এবং মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্লাং-এ ভিড়েছিল, যেখানে ইরানের সঙ্গে যুক্ত জাহাজগুলোও নোঙর করে থাকে। যুক্তরাজ্যের নৌ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংস্থা ভ্যানগার্ড জানিয়েছে, পাকিস্তানের উপকূল থেকে প্রায় ৭১ নটিক্যাল মাইল (১৩১ কিলোমিটার) দূরে জাহাজটিতে হামলা চালানো হয়।
জাহাজ চলাচলে বিপর্যয়
বাব-এল-মান্দেব প্রণালি ও লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের হুতি হামলার সময়ের তুলনায় ৫০ শতাংশেরও বেশি কমেছে। গত মাসে হুতিরা অবরোধ ঘোষণার পর এই সংখ্যা আরও কমেছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, অবরোধের আগে যেখানে দৈনিক গড়ে ৫০টি জাহাজ চলাচল করত, গত সপ্তাহে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে গড়ে ৩২টিতে। হরমুজ প্রণালিতে চলাচল আরও কমেছে। যুদ্ধের আগে দৈনিক ১৩০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করতো, সোমবার এই পথ দিয়ে গেছে মাত্র ৬টি জাহাজ।





