মার্কিন কংগ্রেসে জমা দেয়া পেন্টাগনের প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে দেশটির সংবাদমাধ্যম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বেসামরিক নাগরিকদের যত হতাহতের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, তার সবই ইয়েমেনে চালানো তিনটি মার্কিন হামলায় ঘটেছে। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের মূল্যায়ন অনুযায়ী, গত এপ্রিলে ইয়েমেনে চালানো ওই তিনটি হামলায় ‘সম্ভাব্যতার নিরিখে’ বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।
পেন্টাগনের প্রতিবেদন আরও বলছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইয়েমেনে বেসরকারি সংস্থাগুলোর মাধ্যমে আসা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড আরও ১৫টি ঘটনা তদন্ত করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য হলো ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি জঙ্গিদের সক্ষমতা কমানো।
তবে ক্যারিবীয় ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে চালানো মার্কিন হামলার কোনো হতাহতের তথ্য এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইউএস সাউদার্ন কমান্ডের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত অঞ্চলে সংঘটিত মার্কিন সামরিক অভিযানে বেসামরিক হতাহতের ‘কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেই সম্ভাবনা বেশি।’
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পরিবহনের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছে এবং লক্ষ্যবস্তুকে ‘নার্কো-সন্ত্রাসী’ হিসেবে অভিহিত করছে। প্রতিটি হামলার পর প্রকাশিত হতাহতের সংখ্যার হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এসব জাহাজে চালানো মার্কিন হামলায় ২০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এসব হামলাকে বেআইনি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) বলছে, ট্রাম্প প্রশাসন যাদের লক্ষ্যবস্তু করছে, তাদের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগগুলো ‘ভিত্তিহীন এবং ভয় ছড়ানো দাবি’ ছাড়া আর কিছুই নয়।





