বিতর্কিত কুরিল দ্বীপে পুতিনের সফর ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’: তাকাইচি

ইতুরুপ সফরে ক্যাভিয়ার স্বাদ নিচ্ছেন পুতিন
বিদেশে এখন
0

রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জে বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ‘প্রথম সফরের’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। এই সফরকে তিনি ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন। বিবিসির প্রতিবেদনে তথ্য উঠে এসেছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পুতিন কুরিল দ্বীপপুঞ্জের ইতুরুপ দ্বীপ সফর করেছেন, যেটি জাপানে এতোরোফু নামে পরিচিত। এই দ্বীপটিসহ কুরিল দ্বীপপুঞ্জের চারটি দ্বীপের দাবিদার রাশিয়া ও জাপান উভয় দেশ।

তাকাইচি সাংবাদিকদের বলেন, পুতিনের এই সফর ‘রাশিয়ার প্রতি জাপানি জনমতের অবনতি ঘটিয়েছে।’ ঐতিহাসিকভাবে ও আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে এই দ্বীপপুঞ্জ জাপানের ‘একান্ত নিজস্ব ভূখণ্ড’ বলেও দাবি করেন তিনি। কুরিল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দুই দেশের বিরোধ চলছে কয়েক দশক ধরে। এই বিরোধের কারণেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মস্কো ও টোকিওর মধ্যে কোনো শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি।

উত্তর জাপানের হোক্কাইদো এবং রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপের মাঝে অবস্থিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ। এর দক্ষিণাঞ্চলীয় চারটি দ্বীপের দাবিদার জাপান, যেগুলোকে তারা ‘উত্তরাঞ্চলীয় ভূখণ্ড’ বলে। বর্তমানে দ্বীপগুলো রাশিয়ার শাসনাধীন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে সোভিয়েত ইউনিয়ন এই দ্বীপপুঞ্জ দখল করে সেখানকার প্রায় ১৭ হাজার জাপানি বাসিন্দাকে বহিষ্কার করে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সফরকালে পুতিন মাছের ডিম চেখে দেখেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। বৃহস্পতিবার এর আগে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি বলেন, ‘এই দ্বীপগুলো ঐতিহাসিকভাবে ও আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে জাপানের নিজস্ব ভূখণ্ড এবং জাপান সরকার এই সফরের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ জানাচ্ছে।’

বছরের পর বছর ধরে এই আঞ্চলিক বিরোধ নিরসনের চেষ্টা তেমন এগোয়নি। ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর জাপান মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও শীতল অবস্থা বিরাজ করছে। এর আগে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন এবং তার পূর্বসূরি দিমিত্রি মেদভেদেভ সফরের পরও জাপান কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিল।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কুরিল দ্বীপপুঞ্জে রাশিয়া গত এক দশকে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। ইতুরুপ দ্বীপটি এই অঞ্চলে রাশিয়ার প্রধান সামরিক বিমানঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গত মাসে চীন ও রাশিয়ার নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ যৌথ টহলের অংশ হিসেবে কুরিল দ্বীপপুঞ্জের একটি প্রণালি পার হয়। এ ছাড়া দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি নিয়মিতভাবে সামরিক মহড়া চালিয়ে জাপানের নিন্দার মুখেও পড়ছে রাশিয়া।

এএম