যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংকট: ট্রাম্পের অর্থনৈতিক পদক্ষেপকে ‘সন্ত্রাসবাদ’ আখ্যা আরাঘচির

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি
বিদেশে এখন
0

তেহরানের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনাকে ‘ব্যর্থ নীতির ধারাবাহিকতা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ওয়াশিংটনের জন্য ‘আরও পরাজয়’ ডেকে আনবে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, ‘তথাকথিত ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ আসলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সংকট—অভূতপূর্ব ঋণ ও ক্রমবর্ধমান সুদের বোঝা থেকে দৃষ্টি সরানোর একটি কৌশল। ব্যর্থ নীতিকে দ্বিগুণ জোরদার করা শুধু আরও পরাজয় এবং ইরানিদের শত্রুতাকেই ডেকে আনবে।’ তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বিভিন্ন দেশের সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলছে।

এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযান চালানো হবে। এটি হবে অভূতপূর্ব মাত্রার এক অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও একঘরে করার প্রক্রিয়া। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, যে দেশই ইরানের জন্য কোনো ধরনের সহায়তার সুযোগ করে দেবে, তাদের নিজেদেরও চরম অর্থনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে, যার জবাবে অঞ্চলজুড়ে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। পরে ৮ এপ্রিল ঘোষিত এক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে তীব্র বোমাবর্ষণ বন্ধ হলেও গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ অব্যাহত থাকে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম এই গুরুত্বপূর্ণ পথ ইরান অবরুদ্ধ করে রাখায় তা বর্তমান সংকটের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার হলেও ইরানের দাবি স্পষ্ট। ওয়াশিংটন যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না করবে, তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে না নেবে এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ ছাড় না দেবে, ততক্ষণ এই জলপথ বন্ধ রাখা হবে বলে জানিয়েছে তেহরান।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে তার পুরোনো ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতিতে ফিরে গেছেন। তবে ইরান বরাবরই এই নিষেধাজ্ঞার কৌশলকে অকার্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছে এবং জানিয়েছে, এমন হুমকির মুখে তারা নীতি পরিবর্তন করবে না।

এএম