ইরান যুদ্ধের জেরে গেল ফেব্রুয়ারি থেকেই অস্থির মধ্যপ্রাচ্য। বিভিন্ন সময়ে ইরানি ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস। ফলে যুদ্ধের ব্যাপ্তি ইরান- ইসরাইল ছাপিয়ে ছড়িয়ে পড়ে কুয়েত থেকে কাতার, বাহরাইন থেকে আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে।
হামলা-পালটা হামলার জেরে গেল কয়েকমাস ধরে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে তলানিতে ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্ক। আর এতে শেষ পেরেক মারে বুধবার আমিরাতের ভূখণ্ডে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তের ঘটনা।
হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে দেশটির সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাণিজ্য সম্পর্ক স্থগিতের ঘোষণা দেয় আমিরাত। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিভিন্ন দেশের নানা নিষেধাজ্ঞায় ধুঁকতে থাকা ইরানের অর্থনীতিতে কতটা ক্ষতি বয়ে আনবে আমিরাতের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা, তারই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন পর্যন্ত আরোপিত যেকোনো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চেয়ে আমিরাতের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ইরানের জন্য বেশি ক্ষতির কারণ হবে। কেননা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তেহরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার হয়ে উঠেছে দুবাই। চীন- তুরস্ককে ছাপিয়ে ইরানের বার্ষিক আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ করে আমিরাত।
আরও পড়ুন:
অবজারভেটরি অফ ইকোনমিক কমপ্লেক্সিটি-ওইসির তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে আমিরাত ও ইরানের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৬২০ কোটি ডলার। এর মধ্যে ইরানে আমিরাতের রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৮০ কোটি ডলার। আর ইরান থেকে প্রায় ৪৫ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করে আমিরাত।
আমিরাত থেকে সাধারণত টেলিযোগাযোগ সামগ্রী, কম্পিউটার, তামাক ও বাদাম আমদানি করে ইরান। বিপরীতে আমিরাতের বাজারে কোটি কোটি ডলারের ফল, মসলা, চিংড়ি ও নির্মাণকাজের পাথর রপ্তানি করে ইরান।
পশ্চিমা দেশগুলোর একের পর এক নিষেধাজ্ঞায় যখন জবথবু ইরানের অর্থনীতি, তখন ২০২৪ সালে আবুধাবিতে নিজেদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে যৌথ বৈঠকে বসে আমিরাত- ইরান। সেখানে পরিবহন, লজিস্টিকস, কৃষি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা আরও বাড়াতে সম্মত হয় দুই দেশ।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, আনুষ্ঠানিক বাণিজ্যের বাইরেও দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার আমিরাত। যেখানে নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান থেকে সরাসরি পণ্য কেনা থেকে বিরত পশ্চিমা ক্রেতারা, সেখানে ইরানের থেকে এসব পণ্য কিনতো দুবাইয়ের ব্যবসায়ীরা। পরে এসব পণ্য প্রক্রিয়াজাত করে ইরানে রপ্তানি করে আমিরাত। একারণে আমিরাতের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞাকে ‘যুদ্ধের শামিল’ বলেও মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।




