হাসপাতালে পরীক্ষা শেষে আদিয়ালা কারাগারে ইমরান খান

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান
বিদেশে এখন
0

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আদালতের নির্দেশে চিকিৎসা পরীক্ষা করিয়ে শুক্রবার ভোরে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ জানিয়েছেন, চিকিৎসকেরা তাকে ‘চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ’ ঘোষণা করার পর তাকে আদিয়ালা কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়। আরব নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

আতাউল্লাহ তারার লিখেছেন, ইসলামাবাদের ‘শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল’-এ ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন ‘যোগ্য চিকিৎসকদের’ একটি দল। তিনি বলেন, পুরো প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ইমরান খানকে আদিয়ালা কারাগারে নেয়া হয়েছে।

ইমরান খানের দল ‘পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ’ (পিটিআই) শুক্রবার জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তাকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতালের কাছে শত শত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং ক্লিনিকে যাওয়ার সড়কগুলো অবরোধ করে রাখা হয় বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।

পিটিআইয়ের মুখপাত্র জুলফি বুখারি সংবাদ সংস্থা ‘এএফপি’-কে বলেন, ‘এটা নিশ্চিত, তিনি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে পৌঁছেছেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মানা হয়েছে।’ পিটিআই সদস্য ও পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভিও ‘এক্স’-এ ইমরান খানের হাসপাতালে নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে দুর্নীতি ও অন্যান্য অভিযোগে গত বছর ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে থাকা ইমরান খান দাবি করে আসছেন, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

খবর পেয়ে হাসপাতালের কাছে ইমরান খানের কিছু সমর্থক জড়ো হন। কেউ কেউ গাড়ির দিকে লাল ফুলের পাপড়ি ছুড়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে করা আবেদনে ইমরান খানের আইনজীবীরা বলেছিলেন, তার স্বাস্থ্য ভালো নয় এবং চিকিৎসা পরীক্ষা দরকার। আদালত মঙ্গলবার নির্দেশ দেয়, দুই দিনের মধ্যে তাকে হাসপাতালে রেখে পরীক্ষা করাতে হবে।

আদালতের আদেশে আরও বলা হয়, ইমরান খান সপ্তাহে একবার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন এবং সপ্তাহে দুইবার টেলিফোনে ছেলেদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। তার চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল গঠনের কথাও বলা হয়েছে; সেখানে তার বোন, চিকিৎসক উজমা খানকে যুক্ত থাকার সুযোগ দেয়া হবে।

ইমরান খান ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। ২০২৩ সালের মে মাসে তাকে গ্রেপ্তার করার পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ হয়।

এএম