চাংএ-৭ মিশনের কাঠামো ও নতুন প্রযুক্তি
চারটি প্রধান অংশের সমন্বয়ে চাংএ-৭ তৈরি করা হয়েছে। এতে রয়েছে একটি অরবিটার, একটি ল্যান্ডার, একটি রোভার এবং একটি বিশেষ ‘হপার’। অরবিটারটি চাঁদের কক্ষপথে ঘুরে তথ্য সংগ্রহ ও প্রধান নকশার সঙ্গে পৃথিবীর যোগাযোগ বজায় রাখবে। ল্যান্ডারটি চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে প্রায় ২১ কিলোমিটার প্রশস্ত শেকলটন গহ্বরের কিনারায় অবতরণ করবে।
এ অভিযানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ছয় পায়ের রোবোটিক যান হপার। এটি চাঁদের সমতল এলাকা থেকে উড়ে বা লাফিয়ে গভীর অন্ধকার গহ্বরে ঢোকার জন্য তৈরি করা হয়েছে। চাঁদের মেরু অঞ্চলের গভীর খাঁদে ঢোকা ও বের হওয়ার জন্য এ ধরনের বিশেষ যান ব্যবহারের উদ্যোগ মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এটিই প্রথম।
চাঁদে পানি থাকার তথ্য কীভাবে জানা গেল
গত দুই দশক ধরে বিভিন্ন গবেষণায় চাঁদে পানির অস্তিত্বের কথা নিশ্চিত হওয়া গেছে। ১৯৬০-এর দশকে প্রথম অ্যাপোলো অভিযানের আগেই বিজ্ঞানীরা চাঁদে পানি থাকতে পারে বলে অনুমান করেছিলেন। তবে অ্যাপোলোর আনা নমুনাগুলো পরীক্ষা করে তখন পানির অস্তিত্ব মেলেনি।
পরবর্তী সময়ে ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চাঁদের একটি অন্ধকার গহ্বরে রকেটের অংশ আছড়ে ফেলে ধূলিকণা বিশ্লেষণ করে বরফ পানির অস্তিত্বের স্পষ্ট প্রমাণ পায়। ২০২০ সালে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেন যে চাঁদের পৃষ্ঠের খনিজ কণার ভেতরেও পানির অণু আটকে রয়েছে, যার ব্যাপ্তি আগের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি। চাঁদের দুই মেরুর যেসব গভীর খাদে কোটি কোটি বছর ধরে সূর্যের আলো পৌঁছায়নি, সেখানেই বরফ জমা হয়ে আছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই পানির সন্ধান
চাঁদে পানির উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া এবং তার অবস্থান জানা ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণার জন্য অত্যন্ত কৌশলগত। প্রাচীন মেরু অঞ্চলের বরফে চাঁদের আগ্নেয়গিরির তৎপরতা এবং ধূমকেতু ও গ্রহাণুর মাধ্যমে পৃথিবীতে পানি আসার ইতিহাস সংরক্ষিত থাকতে পারে। এটি পৃথিবীর মহাসাগরগুলো সৃষ্টির রহস্য উন্মোচনে সাহায্য করতে পারে।
এছাড়া বাস্তবে ব্যবহারযোগ্য পানি পাওয়া গেলে তা ভবিষ্যতের মানববাহী চন্দ্র অভিযানে নভোচারীদের খাওয়ার পানি এবং যন্ত্রপাতির শীতলীকরণে ব্যবহার করা যাবে। পানি থেকে উপাদান আলাদা করে হাইড্রোজেনকে জ্বালানি হিসেবে এবং অক্সিজেনকে শ্বাসের কাজে লাগানো সম্ভব হবে। এতে মঙ্গল গ্রহে অভিযান বা চাঁদে খনিজ আহরণের পথ সহজ হবে। তবে ১৯৬৭ সালের জাতিসংঘ মহাকাশ চুক্তি অনুযায়ী কোনো দেশ চাঁদের ওপর স্বত্ব দাবি করতে পারবে না, যদিও সেখানে সম্পদের বাণিজ্যিক ব্যবহারের বিষয়টি এখনো অস্পষ্ট।
প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ ও আগের অভিযান
চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলটি খাদ ও ভৌগোলিক বন্ধুরতায় ভরা হওয়ায় এখানে অবতরণ করা অত্যন্ত কঠিন। ২০২৩ সালে রাশিয়ার পাঠানো ‘লুনা-২৫’ যানটি অবতরণের চেষ্টাকালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধ্বংস হয়ে যায়। অন্যদিকে ভারতের ‘চন্দ্রযান-৩’ সফলভাবে নেমে মাটির তাপমাত্রা মেপে বরফ থাকার নতুন তথ্য দিয়েছিল। চীন এবার চাংএ-৭ এর মাধ্যমে পানি কোথায় আছে, কত গভীরে আছে এবং তা তুলে আনা সম্ভব কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বের করতে চায়।

 Cadre Specialist Physician Forum forms a human chain-320x167.webp)



