শাইবানি জানান, ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নিরাপত্তা চুক্তিসংক্রান্ত আলোচনা স্থগিত রয়েছে। তবে তিনি আশা করছেন, শিগগিরই এ আলোচনা আবার শুরু হবে। সম্প্রতি একটি বিমানঘাঁটিতে ইসরাইলি হামলার পর দুই দেশের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
শাইবানি বলেন, ‘আমরা মনে করি যোগাযোগ থাকা উচিত, বিশেষ করে এমন একটি পক্ষের সঙ্গে যা ক্রমাগত সিরিয়ার নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। তবে এই যোগাযোগের যদি কোনো ফলাফল না আসে, তাহলে আমাদের এর প্রয়োজন নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বর্তমানে ইসরাইলকে বিশ্বাস করি না।’ এ বিষয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা বলেছেন, সিরিয়া অন্য কোনো দেশের জন্য হুমকি নয়। ১৪ বছরের যুদ্ধ শেষে এখন দামেস্কের মূল মনোযোগ দেশ পুনর্গঠনের দিকে। তবে গত বছর বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে ইসরাইলি কর্মকর্তারা সিরিয়া নিয়ে নানা উদ্বেগের কথা বলে আসছেন। ২০২৪ সালে আসাদ সরকারের পতনের পর পরই ইসরাইল দক্ষিণ-পশ্চিম সিরিয়ার কিছু এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়।
শাইবানি বলেন, ‘ইসরাইল গায়ের জোরে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু তারা কোথাও সফল হয়নি। আমি বিশ্বাস করি, আলোচনা শিগগিরই শুরু হবে।’ তিনি জানান, আলোচনার টেবিলে ফিরতে ইসরাইলের ওপর ক্রমাগত চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের শুরুর দিকে দুই পক্ষ একটি চুক্তির খসড়ার প্রায় সব শর্তে একমত হয়েছিল। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইসরাইলকে সিরিয়ায় হামলা বন্ধ করতে হতো এবং আসাদ সরকারের পতনের পর দখল করা এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করার বাধ্যবাধকতা ছিল। এর বদলে সীমান্ত এলাকায় একটি বাফার জোন বা নিরাপত্তা বলয় তৈরির কথা ছিল, যেখানে কেবল জাতিসংঘ বাহিনী মোতায়েন থাকবে। তবে ইসরাইল তা বাস্তবায়নে অনীহা দেখায়।
সিরিয়া ও ইসরাইল ১৯৪৮ সাল থেকে টেকনিক্যালি যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে সিরিয়ার কাছ থেকে গোলান মালভূমি দখল করে নেয় ইসরাইল। শাইবানি বলেন, এখন তাদের মূল অগ্রাধিকার হলো কোনো নিরাপত্তা চুক্তিতে পৌঁছানোর আগেই ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ করা। এরপর গোলান মালভূমি ও শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
সম্প্রতি সিরিয়ার আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে ইসরাইল বোমা হামলা চালায়। ইসরাইলের দাবি ছিল, দামেস্ক সেখানে তুর্কি সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে সিরিয়া ও তুরস্ক দুই দেশই এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। শাইবানি বলেন, সিরিয়াকে যেন তুর্কি ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা না হয়, সে বার্তা দেয়ার পরও ইসরাইল সেখানে হামলা চালিয়েছে। সামরিক প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে সিরিয়া তুরস্কের পাশাপাশি জর্ডান ও সৌদি আরবের মতো দেশের সহযোগিতা নিচ্ছে এবং এই সহযোগিতা তারা অব্যাহত রাখবে।





