হরমুজ প্রণালিতে অস্থায়ী নৌপথ নিয়ে ইরান-ওমান আলোচনা; মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপ অব্যাহত

তেহরানে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যিদ বদর আল-বুসাইদির সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি
বিদেশে এখন
0

ইরানের ওপর মার্কিন অর্থনৈতিক চাপ ক্রমেই বাড়ার মধ্যে হরমুজ প্রণালি পরিচালনায় প্রতিবেশী ওমানের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করেছে তেহরান। দুই দেশ যৌথভাবে একটি অস্থায়ী নৌপথ তৈরি এবং প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। গতকাল (মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট) আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে যাতায়াত করত। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে অনিয়মিতভাবে চলা আলোচনার পর মঙ্গলবার ইরান ও ওমান জানায়, তারা প্রণালির মধ্য দিয়ে একটি যৌথ অস্থায়ী নৌপথ তৈরি এবং সেখান থেকে মাইন পরিষ্কার করার বিষয়ে আলোচনা করেছে।অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রণালির সব মাইন ইতিমধ্যে পরিষ্কার করা হয়েছে। তিনি আগেও একই দাবি করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সক্রিয় সামরিক সংঘাত অনেকটা কমে গেলেও শান্তিচুক্তির কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থমকে রয়েছে এবং প্রণালি দিয়ে যাতায়াত এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। মঙ্গলবার ওমানের আশ শিশাহ এলাকার প্রায় ১৭ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে অজ্ঞাত প্রক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত লেগে জাহাজটি অচল হয়ে পড়ে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস এই তথ্য জানিয়েছে।

অন্যদিকে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস মঙ্গলবার জানিয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত একটি ভিডিও তাদের নজরে এসেছে, যেখানে ট্রাম্পের সর্বকনিষ্ঠ পুত্র ২০ বছর বয়সী ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যার একটি সম্ভাব্য চক্রান্তের কথা বলা হয়েছে। তিন মিনিটের ওই ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, ব্যারনকে নজরদারিতে রাখা হচ্ছে এবং তাকে হত্যার জন্য ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে চলমান উত্তেজনা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের কিছু কূটনৈতিক মিশনে কর্মী পাঠানো শুরু করেছে। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার কারণে আগে এসব মিশন থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেয়া হয়েছিল বা জনবল কমানো হয়েছিল। এই পদক্ষেপ ইঙ্গিত দেয় যে ওয়াশিংটন নিকট ভবিষ্যতে সংঘাত আরও বাড়ার ঝুঁকি কম দেখছে। তবে কিছু দূতাবাস প্রাথমিকভাবে পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হবে না।

ইরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করতে যুক্তরাষ্ট্র চলতি সপ্তাহের শুরুতে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোকে শাস্তির মুখে পড়তে হবে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো শাস্তি আরোপ করা হবে না বলেও জানানো হয়েছে।

এর মধ্যেই তেলের দাম পরপর দুই দিন কমেছে, কারণ ব্যবসায়ীরা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছেন না। ইরান মার্কিন এই প্রচেষ্টাকে চরম বেআইনি আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছে, অনেক দেশ এই চাপ প্রচারণায় যোগ দেবে না।

রয়টার্স/ইপসোসের জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন সংঘাতের শুরুর দিকের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও রেকর্ড নিম্নে।

এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষের প্রাণ গেছে, যাদের বেশির ভাগই ইরান ও লেবাননের নাগরিক। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস করেছে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা এখনো অজানা, যা ভেঙে দেয়াই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের লক্ষ্য।

এএম