প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সাম্প্রতিক তেহরান সফরের সময় তিনি এই প্রস্তাব ইরানের কাছে পৌঁছে দেন। আল আরাবিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, আসিম মুনির ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) সেক্রেটারি মোহসেন রেজায়ির সঙ্গে বৈঠক করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের শর্তগুলোর কেন্দ্রবিন্দু হলো হরমুজ প্রণালিতে অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করা। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে যেত। যুক্তরাষ্ট্র আরও চায়, ইরান তার আঞ্চলিক মিত্রদের হামলা বন্ধে পদক্ষেপ নিক।
এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট স্থগিত বা বাতিল, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট ঘোষণার পর মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছিলেন, ইরানের অর্থনীতির কয়েকটি খাতকে লক্ষ্য করে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।
আল আরাবিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের মূল দাবিগুলো এখনো অপরিবর্তিত। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ, সব মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া, জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছাড়, নৌ-অবরোধের অবসান, পুরো অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং লেবানন ও গাজাসহ আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি।
এই প্রস্তাবকে জুন ২০২৬-এ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের কিছু অংশ পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ব্যবস্থায় সাময়িকভাবে নৌ-অবরোধ শিথিল এবং প্রণালি আংশিক চালু হলেও পরে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে তা কার্যত ভেঙে পড়ে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চীনের কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে বেইজিং ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বদলাবে না; তারা একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতার কথা বলছে।





