চীনের প্রযুক্তি বিপ্লব: কারখানায় রোবটের আধিপত্যে মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ

প্রাণঘাতী গুলির ঘটনার স্থানটির কাছে এক চালকের সঙ্গে কথা বলছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা
বিদেশে এখন
0

কারখানার কাজে মানুষের বিকল্প হিসেবে রোবট ব্যবহারে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে চীন। দেশটির বিভিন্ন শিল্পকারখানায় বর্তমানে ২০ লাখের বেশি রোবট নিয়মিত উৎপাদনকাজে নিয়োজিত রয়েছে, যা বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। বিশ্বের অর্ধেকের বেশি শিল্প রোবটও এখন তৈরি হচ্ছে চীনে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির এই দ্রুত বিস্তার দেশটির বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলারের উদ্ভাবন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন। এর অংশ হিসেবে হাংঝুর মতো প্রযুক্তি হাবগুলোর কারিগরি প্রতিষ্ঠানে তরুণদের রোবটিকস ও প্রোগ্রামিংয়ের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। হাংঝু টেকনিশিয়ান ইনস্টিটিউটের শিক্ষক চেন তিয়ানইউ বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিকসের জগতে যাদের প্রয়োজন থাকবে না, তারা নিশ্চিতভাবেই বাদ পড়ে যাবে।’

চীনের এই দ্রুত স্বয়ংক্রিয়তার পেছনে অন্যতম বড় কারণ দেশটির জনসংখ্যা হ্রাস ও বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে চীনের এক-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠীর বয়স ৬০ বছরের বেশি হবে। পাশাপাশি আগামী এক দশকে দেশটির কর্মক্ষম জনসংখ্যা প্রায় ৬ কোটি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই শ্রমঘাটতি পূরণেই কারখানায় রোবটের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে বেইজিং।

চেংডুর সিআরপি টেকনোলজির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এমন রোবট তৈরির কাজ করছে, যা অন্যান্য রোবট তৈরি করতে সক্ষম। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা দলের প্রকৌশলী পাং কাই বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের রোবটগুলো যেন মানুষের মতো নিজেরা চিন্তা করতে পারে। কারণ আগামী ১০ বছরের মধ্যে হয়তো চীনে পর্যাপ্ত শ্রমিকের সংকট দেখা দেবে।’

তবে এই দ্রুত পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। চীনে এখনো প্রায় ১২ কোটি মানুষ উৎপাদন খাতে কর্মরত। লিপমোটরের মতো বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কারখানার ওয়েল্ডিং ও পেইন্টিংয়ের কাজে প্রায় শতভাগ স্বয়ংক্রিয়তা নিশ্চিত করেছে। ফলে ভবিষ্যতে মানুষের কাজের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।

যন্ত্রাংশ তৈরির ক্ষেত্রে চীনের শক্ত অবস্থান রয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রোবটিকসের মহাসচিব সুসান বিয়েলার বলেন, ‘শেনঝেনে একটি রোবট তৈরির প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করতে এক ঘণ্টারও কম সময় লাগে, যেখানে ইউরোপে এক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লেগে যায়।’ তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে থাকলেও ওপেন-সোর্স মডেলের মাধ্যমে ডিপসিক ও মুনশটের মতো চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো সেই ব্যবধান দ্রুত কমিয়ে আনছে।

এএম