সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর দুই সামরিক কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাদের ৮৪ জন সেনা নিহত হয়েছেন। একই সময়ে নিজেদের ৫৭ জন যোদ্ধা নিহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে হুতিদের চারটি সামরিক সূত্র।
লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বারের নিয়ন্ত্রণ নেয়াকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে এ লড়াই চলছে। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি গত জুলাইয়ে ভেঙে পড়ার পর আরব উপদ্বীপের দেশটিতে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত।
বৃহস্পতিবার থেকে সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা বন্দরনগরী মোখা বিচ্ছিন্ন করতে অভিযান শুরু করে হুতিরা। নগরীটি কয়েক সপ্তাহ ধরেই হামলার মুখে রয়েছে। সেখান থেকে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশদ্বার বাব-এল-মান্দেব প্রণালির সীমান্তবর্তী এলাকার দিকে এগোচ্ছে বিদ্রোহীরা।
সরকারি বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, শনিবার সন্ধ্যায় তায়েজের সঙ্গে মোখাকে যুক্ত করা প্রধান সড়ক বিচ্ছিন্ন করতে সক্ষম হয় হুতিরা। এএফপির হিসাব অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার হুতিদের অভিযান শুরুর পর থেকে উভয় পক্ষের তিন শতাধিক যোদ্ধা ও বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
লড়াই ছড়িয়ে পড়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমের তায়েজ প্রদেশের মাকবানাহ ও জাবাল হাবাশি এলাকা থেকে বহু পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। তারা বাস্তুচ্যুতদের আল-বারিন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়কারী সংস্থা ওসিএইচএ জানায়, মাকবানাহ ও জাবাল হাবাশি এলাকায় গোলাবর্ষণ ও সংঘর্ষের কারণে প্রায় ১ হাজার ৭৯০টি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, বাস্তুচ্যুতদের পূর্ববর্তী ক্যাম্পগুলোর আশপাশে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই দ্বিতীয়বারের মতো বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হচ্ছেন।
আদনভিত্তিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সরকারের এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, রোববার ভোরের দিকে সংঘাতের মাত্রা কিছুটা কমে এসেছে। তিনি জানান, লোহিত সাগর উপকূলের সম্মুখসারির জেলা হাইস থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ভেতরে অগ্রসর হয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে সরকারি বাহিনী। তবে হুতি বিদ্রোহীরা তায়েজের পশ্চিম দিক দিয়ে বাব-এল-মান্দেবের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ফারিয়া আল-মুসলিমি বলেন, হুতিরা মোখার দুর্বল ফ্রন্টলাইনের সুযোগ নিচ্ছে। তারা তায়েজের সঙ্গে বাব-এল-মান্দেব ও মোখার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে চায়। তিনি বলেন, ‘বাব-এল-মান্দেব পুরোপুরি দখলে নেয়ার সুযোগ পেলে তারা এক সেকেন্ডের জন্যও দ্বিধা করবে না।’
মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিউ আমেরিকার গবেষক অ্যাডাম ব্যারন বলেন, বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া হুতিদের এ অভিযান ইয়েমেনের নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট অংশ পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। পরিস্থিতি এখন বিপজ্জনক সংঘাতের দিকে যাচ্ছে, যা থামানোর সুযোগ খুব কম।
ইরান বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় সুয়েজ খালের মাধ্যমে এশিয়া ও ইউরোপকে যুক্ত করা বিকল্প পথ হিসেবে বাব-এল-মান্দেবের কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। জুলাইয়ে সানা বিমানবন্দরে একটি ইরানি বিমান অবতরণকে ঘিরে উভয় পক্ষের মধ্যকার ভঙ্গুর সমঝোতা ভেঙে পড়ে এবং নতুন করে হামলা শুরু হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইয়েমেনের এ সংঘাত সেখানে একটি নতুন ফ্রন্ট উন্মোচনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এরই মধ্যে সৌদি আরবের ওপর নৌ-অবরোধের ঘোষণা দিয়ে দেশটির জাহাজ ও ভূখণ্ড লক্ষ্য করে হামলা শুরু করেছে হুতি বিদ্রোহীরা।





