মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও সরবরাহের শঙ্কা; ১০০ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

সূর্যাস্তের আলোয় এয়ারানকোল তেলক্ষেত্রের পাম্পজ্যাক
বিদেশে এখন
0

মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক নতুন সামরিক হামলা ও জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্ব তেল সূচকের দাম লাফিয়ে বাড়ছে। টানা চতুর্থ দিনের মতো দাম বেড়ে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ১ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৩৩ ডলারে পৌঁছেছে। এটি মনস্তাত্ত্বিক সীমা ১০০ ডলারের একেবারেই কাছাকাছি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৩৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ ছয় মাসের সংঘাত নিরসনে স্থায়ী সমাধানের সম্ভাবনা ফিকে হয়ে আসায় এবং অঞ্চলে হামলা জোরদার হওয়ায় গত আগস্টের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত মঙ্গলবার ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি শহরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের মিত্র দেশটি সংঘাতের কেন্দ্রে চলে আসে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ওমানের উপসাগর ও খার্গ দ্বীপের কাছে পাঁচটি ইরানি তেলের ট্যাংকার ধ্বংস করে এবং জবাবে জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান।

ব্যাংকিং সংস্থা আইএনজি-র বিশ্লেষকেরা জানান, সাম্প্রতিক এই উত্তেজনাময় পরিস্থিতি বার্তা দিচ্ছে যে শান্তি আলোচনা চালুর পথ এখনো বেশ দূরে। তেলের বাজারে এ মুহূর্তে বড় ধরনের ঝুঁকি কাজ করছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিকল্প রুট হিসেবে সৌদি আরব হরমুজ প্রণালির বাইরে দিয়ে কিছু তেল রপ্তানি শুরু করলেও দেশটিতে হুথিদের হামলা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এর আগে গত কয়েক সপ্তাহে অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক নৌপথে ঘন ঘন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এএম