উত্তর মেরুতে রুশ সাবমেরিন প্রতিহত, সমুদ্রতলদেশীয় যোগাযোগ কেবল রক্ষার দাবি তিন দেশের

তুষারে ঢাকা পাহাড় ও আর্কটিক মহাসাগরের দৃশ্য
বিদেশে এখন
0

আর্কটিক মহাসাগরের বরফশীতল পানিতে দূরবর্তী স্বালবার্ড দ্বীপপুঞ্জের কাছে সমুদ্রতলদেশীয় যোগাযোগের গোপন কেবল ধ্বংসের একটি ষড়যন্ত্র বানচাল করার দাবি করেছে ন্যাটোভুক্ত মিত্র দেশগুলো। কোনো প্রমাণ বা চিহ্ন না রেখে সমুদ্র তলদেশের কেবল অকেজো করে দেয়ার লক্ষ্যে রুশ গভীর-সমুদ্র পরিচালন পরিদপ্তর (জিইউজিআই) পরিচালিত এক গোপন অনুশীলন পণ্ড করে দেয় যুক্তরাজ্য, নরওয়ে ও যুক্তরাষ্ট্র। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, চলতি বসন্তে রুশ সাবমেরিনগুলো যখন একটি বিশেষ প্রযুক্তির সাহায্যে ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো বিকল করার মহড়া চালাচ্ছিল, তখনই তিন দেশের যৌথ বাহিনী সেগুলোকে চিহ্নিত করে এবং ধাওয়া দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।

স্বালবার্ড দ্বীপপুঞ্জ থেকে মূল নরওয়ে পর্যন্ত প্রায় ১,৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি ফাইবার-অপটিক কেবল সমুদ্রের ২,৭০০ মিটার গভীরে অবস্থিত। এগুলো মূলত উপগ্রহ তথ্য আদান-প্রদান এবং বৈশ্বিক ইন্টারনেট সংযোগ ও অর্থ লেনদেনের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ন্যাটোর যৌথ প্রতিরক্ষা নীতি বা ‘অনুচ্ছেদ ৫’ পরীক্ষা করে দেখার জন্য রাশিয়া কৌশলগতভাবে সমুদ্রের তলদেশের এসব ইন্টারনেট কেবল টার্গেট করতে পারে।

এ ঘটনার পর নরওয়ে ও যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা রাশিয়ার এই গোপন প্রযুক্তি শনাক্তের প্রমাণ নিয়ে মস্কোর কর্মকর্তাদের কাছে যান, যেন ভবিষ্যতে তারা এমন পদক্ষেপে অনীহা প্রকাশ করে। নরওয়ের প্রতিরক্ষামন্ত্রী তোরে সানদভিক বলেন, ‘যৌথ অভিযানের মাধ্যমে আমরা রাশিয়াকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছি যে তারা গোপনে এমন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারে না।’

তবে মস্কো সব সময়ই ন্যাটো দেশগুলোতে কোনো ধরনের নাশকতা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি ইউরোপে সাবমেরিন ও ড্রোনের মাধ্যমে হাইব্রিড হামলা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ন্যাটো জোট তাদের সমুদ্র তলদেশের কেবল ও জ্বালানি পাইপলাইনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

এএম