ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আলোকসজ্জা ও প্রচারণায় শহর সাজানো হলেও আড়াল করা হয়েছে বস্তি এলাকা। দক্ষিণ দিল্লির বসন্ত বিহারসংলগ্ন মুনিরকা এলাকার বস্তিগুলো পর্দা ও ব্যানার দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত জি২০ শীর্ষ সম্মেলন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরের সময়ও বস্তি ঢেকে ফেলার একই কৌশল দেখা গিয়েছিল।
২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, নয়াদিল্লির মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশের বেশি বস্তিতে বসবাস করেন। ২০২৩ সালে ভারতের রাজ্যসভায় দেয়া তথ্য অনুযায়ী, নগরীর ৬৫০টি বস্তিতে প্রায় সাড়ে ১৫ লাখ মানুষের বসবাস। আবাসনবিষয়ক অধিকার সংগঠন হাউজিং অ্যান্ড ল্যান্ড রাইটস নেটওয়ার্কের (এইচএলআরএন) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের জি২০ সম্মেলনের আগে ৭৮টি উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে অন্তত ২ লাখ ৯৩ হাজার ২০৫ জনকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল এবং ১ হাজার ৬০০টির বেশি ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলা হয়।
সম্মেলন উপলক্ষে নয়াদিল্লির বিভিন্ন সড়কে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাশাপাশি অন্যান্য বিশ্বনেতার আলাদা ছবি দিয়ে বিলবোর্ড বসানো হয়েছে। তবে আগের সম্মেলনের তুলনায় প্রচারণায় কিছু পরিবর্তন দেখা গেছে। অন্যান্য সরকারপ্রধানের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির আলিঙ্গন বা কুশল বিনিময়ের যে দৃশ্য অতীতে নিয়মিত প্রচার করা হত, এবার সরকারি প্রচারণায় তা রাখা হয়নি।
সম্মেলনে অংশ নেয়া বিদেশি সাংবাদিকদের দেয়া উপহারের থলি নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। কিছু সাংবাদিক সামাজিক মাধ্যমে এর অতিমাত্রার সমালোচনা করে জানান, একটি কর্মসূচির তালিকা ও সংশ্লিষ্ট নথি ছাড়া এ ধরনের উপহারে বাড়তি খরচের কোনো প্রয়োজন নেই।
—দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদন অবলম্বনে





