বুলগেরিয়ার গোলাবারুদ গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ; নাশকতার আশঙ্কা সরকারের

বুলগেরিয়ায় গোলাবারুদ সংরক্ষণাগারে বিস্ফোরণ ও আগুন
বিদেশে এখন
0

বুলগেরিয়ার একটি গোলাবারুদের গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মধ্য বুলগেরিয়ার গোরনি ভারপিশতা গ্রামের কাছে অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এমকোর একটি গুদামে গতকাল (শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এতে কেউ হতাহত হননি এবং কর্মীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আরব নিউজে প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইউক্রেন যুদ্ধে এমকোর তৈরি গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়। বুলগেরিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান দেমের্দঝিয়েভ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, গুদামটিতে আগুন লাগার পর ভেতরে থাকা বিস্ফোরক ও প্রায় ১০০টি গোলাবারুদের কারণে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটে। অন্য গুদামগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নেই জানিয়ে তিনি বলেন, গুদামটির নিরাপত্তাব্যবস্থায় কিছু ত্রুটি ছিল এবং দুর্ঘটনার সব সম্ভাব্য কারণ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ন্যাটো সদস্য ও ইউক্রেনের অন্যতম সামরিক সহায়তাকারী বুলগেরিয়ায় প্রায় এক মাস আগেও এমকোর আরেকটি কারখানার অস্ত্র গুদামে আগুন লেগেছিল। সেবার কোনো মানবিক ত্রুটি ছিল না বলে দাবি করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।

এমন পরিস্থিতিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইলিয়ানা ইয়োতোভা জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের জরুরি বৈঠক ডাকার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। তিনি বলেন, ‘গোলাবারুদের ডিপোতে বিস্ফোরণের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে।’

এমকোর মালিক বুলগেরীয় ব্যবসায়ী এমিলিয়ান গেবরেভ ২০১৫ সালে একটি বিষপ্রয়োগের চেষ্টা থেকে বেঁচে যান। ওই ঘটনায় তিন রুশ নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল। এছাড়া ২০১১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে দেশটির চারটি অস্ত্র কারখানায় দূরনিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও ছয়জন রুশ নাগরিকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ রয়েছে। ইউক্রেন ও জর্জিয়ায় অস্ত্র সরবরাহ ব্যাহত করতেই এসব বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল বলে অভিযোগ তদন্তকারীদের।

সম্প্রতি ইউক্রেনকে সমর্থন দেয়া ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন রহস্যজনক ঘটনা ঘটেছে। চলতি মাসের শুরুতে জার্মানির মিউনিখে একটি প্রতিরক্ষা কোম্পানির কার্যালয়ের কাছে ফায়ারবোমা নিক্ষেপ করা হয়। এর আগে গত আগস্টে ইতালির রোমের কাছে কেএনডিএস পরিচালিত একটি গোলাবারুদ কারখানাতেও বিস্ফোরণ ঘটে।

এএম