মানবজাতিকে ‘নিশ্চিহ্ন করবে’ এআই—এক গবেষকের দাবি, অন্যরা কী বলছেন

অ্যানথ্রোপিকের সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সন; সামাজিক মাধ্যমের দুটি পোস্ট
তথ্য-প্রযুক্তি
বিদেশে এখন
0

ক্রমেই মানুষের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি। চোখের পলকেই জটিল কাজের নিখুঁত সমাধান দিচ্ছে এআই। এমনকি, চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে মানুষের সৃজনশীলতাকেও। কিছু ক্ষেত্রে মানুষের চেয়েও বুদ্ধিমান এবং দ্রুততর হয়ে উঠছে এই প্রযুক্তি। এ নিয়ে প্রভাবশালী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও এখাতের বিনিয়োগে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, মানবজাতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাসত্ব মেনে নিতে যাচ্ছে কি না?

এদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলতে পারে— এমন অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেছেন এআই গবেষক জ্যাকব কক্সন। এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের সিইও দারিও আমোদিও ‘মানবসভ্যতায় মারাত্মক ঝুঁকির’ বিষয়টি সামনে এনেছেন। এমন অবস্থায় এআইয়ের উন্নয়ন ধীরগতি করতে একমত হয়েছে বিশ্বের শীর্ষ তিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান।

অ্যানথ্রোপিকের সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সন বলেন, ‘এটি মোটেও বাড়িয়ে বলা হবে না। যারা এসব প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি নির্মাণের সঙ্গে জড়িত, তারা মানবজাতির মানবজাতির বিলুপ্তির সম্ভাবনা আছে বলে বিশ্বাস করেন। যারা এই প্রযুক্তি কোড করার কাজে জড়িত, তারা বলছেন এর সম্ভাবনা ১০ শতাংশ বা তার চেয়েও বেশি। মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনার ব্যাপারে সবার কাছে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা থাকলেও বিষয়টি সবার মাথায় রয়েছে।’

তার পদত্যাগপত্রটি সামাজিক মাধ্যমে এক রাতের মধ্যেই ১০ কোটির বেশি শেয়ার হয়। বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এআই শিল্পের ভয়াবহতা ও ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন জ্যাকব কক্সন। তার মতে, এই খাতের উন্নয়ন না থামালে শিগগিরই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে মানবজাতি।

এআই মানুষকে হত্যা করতে পারে জ্যাকব কক্সনের এমন বিস্ফোরক মন্তব্যের সঙ্গে অনেকটাই একমত পোষণ করেছেন অ্যানথ্রোপিকের সিইও দারিও আমোদি। সিএনএনকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে আমোদি বলেছেন, এআই সিস্টেমগুলো ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ওঠায় পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণে আরও সময় প্রয়োজন। এআইয়ের বিকাশ দ্রুত করার প্রতিযোগিতাকে বেপরোয়া আচরণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দারিও আমোদি বলেন, ‘জেকবের মন্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত হওয়ার চেয়ে একমত হওয়ার বিষয়ই বেশি। তার পদত্যাগটিও আকর্ষণীয়। তিনি চলে যাওয়ার পর অ্যানথ্রোপিক প্রতিষ্ঠানকে সবচেয়ে দায়িত্বশীল বলে উল্লেখ করেছেন। যা খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।’

নিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক দীর্ঘ পোস্টে আমোদি বিভিন্ন খাতে এআই-এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে সতর্কবার্তা তুলে ধরেছেন। তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি পুরো ইন্টারনেট ব্যবস্থা দখল করে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটাতে পারে। তবে উন্নয়ন পুরোপুরি বন্ধ করে দিলে মানবজাতি এআইয়ের সুফল থেকে বঞ্চিত হবে। তাই উন্নয়ন গতি কমানোর বিকল্প নেই। পাশাপাশি সবাইকে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে, এআই প্রযুক্তির ধীরগতির বিষয়ে অ্যানথ্রপিকের প্রধানের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন ওপেনএআই-এর প্রধান স্যাম অল্টম্যান এবং এক্সএআই-এর প্রধান ইলন মাস্ক। ঝুঁকি যাচাইয়ে নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞদেরকে কোম্পানির এআই সিস্টেমে প্রবেশাধিকার দেয়ার প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছেন স্যাম অল্টম্যান। এআই পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও বেশি ঝুঁকির কারণ হতে পারে সতর্ক করেছেন ইলন মাস্ক।

তবে বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বানের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মানবজাতির বিলুপ্তির সম্ভাবনা মানতে নারাজ তিনি। যুক্তরাষ্ট্র এই শিল্পে শীর্ষস্থানে থাকবে বলে দাবি ট্রাম্পের।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র চীনকে ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত দেশ হিসেবে এই ধারা বজায় রাখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় যে জয়ী হবে, সে এগিয়ে থাকবে। এআই নিয়ন্ত্রণে সুরক্ষাব্যবস্থা নিতে পারি। তবে অনেক নেতিবাচক শক্তি আছে যারা এমন সব বিষয় নিয়ে আসছে, যা তাদের আনা উচিত নয়। এআইয়ের কারণে মানবজাতি বিলুপ্তির সম্ভাবনা নেই।’

এদিকে, বিশ্বের শীর্ষ প্রভাবশালী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, এআইয়ের কারণে মানুষের বিলুপ্তির ১০ শতাংশ ঝুঁকি থাকলেও তা বিবেচনায় নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক আইনপ্রণেতা এআই ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন তৈরির জোরালো তাগিদ দিয়েছেন।

এসএইচ