সমাজের কল্যাণে এআই প্রযুক্তিকে কীভাবে কাজে লাগানো যায় এবং এর সার্বজনীন নীতিমালা কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়ে আলোচনার জন্য এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং, ডিপমাইন্ডের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্যার ডেমিস হাসাবিস, ওপেনএআইয়ের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা সারাহ ফ্রায়ার এবং যুক্তরাজ্যের এআইবিষয়ক মন্ত্রী কণিষ্ক নারায়ণসহ শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
প্রযুক্তি নির্বাহীদের উদ্দেশে রাজা চার্লস বলেন, ‘যারা এই প্রযুক্তি তৈরি করেছেন, তারাই এখন সতর্ক করে বলছেন যে এআই বিপজ্জনক রূপ নিতে পারে—এমনকি তা মানুষের প্রাণহানির কারণও হতে পারে।’ তিনি বলেন, এই প্রযুক্তি ভুল হাতে পড়া এবং বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটাতে এটি ব্যবহার হওয়ার ঝুঁকি বিবেচনা করার সময় এখনই। প্রযুক্তি নির্বাহীদের দায়িত্ব কেবল উদ্ভাবনকে এগিয়ে নেয়া নয়, বরং এটি যেন মানবজাতি ও প্রকৃতির সেবায় নিয়োজিত থাকে, তা নিশ্চিত করা।
সম্মেলনে এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং বলেন, নিরাপত্তার বিষয়টিই সবার আগে। কোনো প্রযুক্তিগত পণ্য পুরোপুরি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত তা বাজারে না ছেড়ে প্রকৌশলগত উন্নয়ন চালিয়ে যাওয়া উচিত।
অন্যদিকে ডিপমাইন্ডের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্যার ডেমিস হাসাবিস সতর্ক করে বলেন, মানুষের সমান বা তার চেয়েও বেশি দক্ষতাসম্পন্ন কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা (এজিআই) হয়তো আর মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই চলে আসবে। এর প্রভাব শিল্পবিপ্লবের চেয়েও দশ গুণ বেশি হতে পারে। তবে বিশ্বনেতা ও গবেষকেরা সম্মিলিতভাবে কাজ করলে এই ঝুঁকিগুলো সামাল দেয়া সম্ভব।
ওপেনএআইয়ের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা সারাহ ফ্রায়ার জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জটিল সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম হলেও এটি সবসময় মানুষের সেবায় ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা যৌথভাবে তদারক করতে হবে। কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা সরকারের পক্ষে এই প্রযুক্তি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।





