সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিআরআইসিএস (ব্রিকস) জোটের শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, কারণ বাংলাদেশ বর্তমানে বিমসটেক জোটের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই সম্মেলনে যোগ দেননি। এর আগে গত আগস্টেও তাকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল দিল্লি। কিন্তু ২০২৬ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে বসে তার দেয়া অডিও ভাষণ বাংলাদেশে তীব্র ক্ষোভ তৈরি করায় সেই সফরটি তখন আর বাস্তবায়িত হয়নি।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থগিত হওয়া সেই সফরটি বাস্তবায়নে দুই দেশ এখন নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধের নতুন সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে আলোচনা করছে। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদি এ বিষয়ে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সময়সূচির সঙ্গে মিলিয়ে এই সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করার চেষ্টা চলছে।
এই সফরের আলোচনার মধ্যেই নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনেও বড় ধরনের রদবদল হচ্ছে। ভারতে বাংলাদেশের বর্তমান হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে জেনেভায় জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হচ্ছে। তার জায়গায় বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। এ বিষয়ে ভারতের আনুষ্ঠানিক সম্মতির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তবে তারেক রহমানের এই সফর চূড়ান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে ঢাকার মূল বার্তা হলো সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। মূলত ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার প্রকাশ্য রাজনৈতিক বক্তব্য বন্ধ করা এবং তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আইনি আবেদনের বিষয়ে ভারতের সুস্পষ্ট অবস্থান চায় ঢাকা।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর আবেদনটি বর্তমানে তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে। একই সঙ্গে দিল্লি জোর দিচ্ছে উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থ ও নিরাপত্তার ওপর ভিত্তি করে একটি নতুন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ার ওপর। কূটনীতিকেরা মনে করছেন, দুই দেশই এই সফরের রাজনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার হলে উভয় পক্ষই লাভবান হবে।
—দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস প্রতিবেদন অবলম্বনে





