ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদের ওপর মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি ইইউয়ের

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস
বিদেশে এখন
0

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে চাওয়া ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) কর্মকর্তাদের ভিসা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের অস্বীকৃতির ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ওয়াশিংটনকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে অবিলম্বে এই ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে জোটটি।

টানা দ্বিতীয় বছরের মতো জাতিসংঘ অধিবেশনে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলের নিউ ইয়র্ক সফরে বাধা দিল যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘের আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আইনি বাধ্যবাধকতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক মুখপাত্র আনোয়ার এল আনৌনি শনিবার বলেন, ‘জাতিসংঘের সঙ্গে আয়োজক দেশের বিদ্যমান চুক্তি এবং দায়িত্বের বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

এর আগে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও একই উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, ভিসা না দেওয়ায় জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের পূর্ণাঙ্গ অংশগ্রহণের অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। গত বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) শীর্ষ নেতাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখছে।

ওয়াশিংটনের দাবি, ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব কাঙ্ক্ষিত সংস্কার আনতে ব্যর্থ হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আদালতে গিয়ে ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা এড়িয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে শান্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত করছে। এছাড়া ইসরাইলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিকেও কারণ হিসেবে দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপে চরম দ্বিমুখী নীতি প্রকাশ পেয়েছে। গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা সত্ত্বেও ইসরাইলি কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কোনো ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি।

অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদের সরাসরি উপস্থিতিতে বাধা দিলেও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য দেবেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। আগামী সপ্তাহে প্রচারিতব্য সেই পূর্বধারণকৃত বক্তব্যে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান, গাজার মানবিক সংকট এবং ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরাইলি বসতি স্থাপনের বিষয়টি তিনি জোরালোভাবে তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে ফিলিস্তিনিদের নিষিদ্ধ করলেও জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ ইরানের একটি ছোট প্রতিনিধিদলকে সীমিত চলাচলের শর্তে ভিসা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এএম