কঙ্গোর নতুন দুই অঞ্চলে ইবোলা সংক্রমণ ছড়ানোর তথ্য জানালো ডব্লিউএইচও

ইবোলা চিকিৎসাকেন্দ্রে সুরক্ষা পোশাক পরা এক কর্মী স্যানিটারি বেসিন সরাচ্ছেন
বিদেশে এখন
0

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোয় (ডিআর কঙ্গো) বুন্দিবুগিও ধরনের ইবোলা ভাইরাস আরও দুটি নতুন স্বাস্থ্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি গতকাল (শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর) জানায়, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের সীমান্তঘেঁষা দক্ষিণ উবাঙ্গি প্রদেশের বুলু এবং দক্ষিণ সুদান সীমান্তঘেঁষা হাউত-উয়েলে প্রদেশের দুঙ্গু অঞ্চলে নতুন করে ইবোলা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশটির সাতটি প্রদেশের মোট ৬৩টি স্বাস্থ্য অঞ্চল এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মুখে পড়লো। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কঙ্গোয় ৭ হাজার ৮ ৯০ জনের শরীরে ইবোলা শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে মারা গেছেন ৩ হাজার ৭৯৯ জন। অর্থাৎ মোট আক্রান্তের প্রায় অর্ধেক রোগীই প্রাণ হারিয়েছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস জানান, সশস্ত্র সংঘাত ও বিপুলসংখ্যক মানুষের বাস্তুচ্যুতির কারণে স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্ত এলাকাগুলোয় পৌঁছাতে এবং সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষদের খুঁজে বের করতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন।

তিনি বলেন, ‘ইবোলা পরিস্থিতিকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। সংঘাতের কারণে আমাদের প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। কারণ মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়ছে এবং কিছু এলাকায় চলাচলের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে।’ ডব্লিউএইচও প্রধান আরও জানান, বুন্দিবুগিও স্ট্রেইনের চিকিৎসায় এখনো অনুমোদিত কোনো টিকা নেই, তবে বেশ কিছু টিকা ও প্রতিষেধকের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ত্বরান্বিত করা হচ্ছে।

এদিকে আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার (কন্টাক্ট ট্রেসিং) লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারছেন না স্বাস্থ্যকর্মীরা। আফ্রিকা সেন্টার ফর डिजीজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (আফ্রিকা সিডিসি) মহাপরিচালক ড. জাঁ কাসেয়া জানান, ৭ হাজারের বেশি আক্রান্তের বিপরীতে অন্তত ৪ লাখ ২০ হাজার মানুষকে নজরদারিতে রাখা উচিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে মাত্র ৩০ হাজার মানুষের তালিকা তাদের কাছে রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘প্রাদুর্ভাব যখন গোষ্ঠীপর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে, তখন কেবল নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা বলা যায় না।’

গত মে মাসে মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৩২ জনের ইবোলা শনাক্ত হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষতিগ্রস্ত উত্তর কিভু প্রদেশে আক্রান্তদের মৃত্যুর হার প্রায় ৬০ শতাংশ, যা জাতীয় গড় ৪৮ শতাংশের চেয়ে অনেক বেশি।

স্থানীয় চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে গেলে মারা যেতে হবে—এমন ভীতি থেকে অনেক রোগী সময়মতো চিকিৎসা নিচ্ছেন না। এ ছাড়া বুন্দিবুগিও স্ট্রেইনের প্রাথমিক লক্ষণগুলো তুলনামূলক মৃদু হওয়ায় মানুষ তা সাধারণ ম্যালেরিয়া বা টাইফয়েড জ্বর মনে করে ভুল করছেন, যা সংক্রমণ প্রতিরোধকে আরও কঠিন করে তুলছে।

এএম