ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা: আরব সাগর থেকেও তাড়ানো হবে মার্কিন বাহিনীকে, হুঁশিয়ারি খামেনির

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি
বিদেশে এখন
0

হরমুজ প্রণালিতে ইরানি যোদ্ধাদের তীব্র প্রতিরোধের কারণে মার্কিন বাহিনী আরব সাগরের বাইরে অগ্রসর হওয়ার সাহস পাচ্ছে না বলে দাবি করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি। চলমান যুদ্ধের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেহরানের শত্রুদের অচিরেই পুরোপুরি বিতাড়িত করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি আর্থিক সংবাদ ও বাজারতথ্য প্ল্যাটফর্মবেনজিঙ্গার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বার্তায় মুজতবা খামেনি বলেন, হরমুজ প্রণালির অতন্দ্র প্রহরী ও সাহসী যোদ্ধাদের কঠোর আঘাতের মুখে পড়ে শত্রুরা এখন আরব সাগরেই থমকে আছে। তিনি আরও বলেন, ‘আরব সাগর থেকেও তাদের উপস্থিতি মুছে যেতে আর বেশি দিন সময় লাগবে না।’

এদিকে গত রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ জানায়, হরমুজ প্রণালি এলাকায় হামলায় ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্ট ও মাথায় আঘাত পেয়ে আটজন মার্কিন মেরিন সেনা আহত হয়েছেন। তবে তারা কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ছিলেন না। চলতি মাসের শুরুর দিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিতে দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি তেলের ট্যাংকারে হামলার দাবি করেছিল। যদিও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই দাবি অস্বীকার করেছে।

কূটনৈতিক ক্ষেত্রে সংঘাত নিরসনে একটি চুক্তির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন গত সোমবার বলেন, পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও জব্দ তহবিল ছাড়ের যে প্রস্তাব প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছেন, তা ২০১৫ সালে বারাক ওবামা প্রশাসনের করা চুক্তিরই প্রতিধ্বনি।

অন্যদিকে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতেই রয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি বলেন, সংঘাত শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের জন্য ক্রেতাদের প্রতি ব্যারেলে ৫০ ডলার পর্যন্ত বাড়তি প্রিমিয়াম দিতে হচ্ছে। চলমান এই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোল ও ডিজেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

এএম