যন্তর মন্তরে অনুপ্রবেশ মামলায় কারাগারে সিজেপি নেতা সৌরভ ও আশুতোষ

সৌরভ দাস (ডানে), আশুতোষ রাঙ্কা (মাঝে) ও অজিঙ্কা শিন্ডে (বামে)
বিদেশে এখন
0

যন্তর মন্তরে অনুপ্রবেশ, সরকারি কর্মকর্তাদের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে সিজেপির সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও অজিঙ্কা শিন্ডেকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সরকারের এ পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে যন্তর মন্তরকে দেশের জনগণের সম্পত্তি দাবি রাহুল গান্ধীর। এছাড়া নয়াদিল্লির ১৪৪ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে পুলিশের চার এফআইআর দায়ের। পুলিশের দাবি, পুরোনো দাঙ্গা-সহিংসতার ভিডিও দিল্লির সাম্প্রতিক বিক্ষোভ হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে।

নির্বাচনি প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভারতজুড়ে ক্রমেই ছড়াচ্ছে উত্তেজনা। বিরোধী দলগুলোর জোট, তরুণদের নেতৃত্বাধীন সিজেপি এবং ক্ষমতাসীন বিজেপির পাল্টাপালটি আন্দোলন-বিক্ষোভ সমাবেশে উত্তাল রাজধানী দিল্লিসহ দেশটির বিভিন্ন শহর।

যন্তর মন্তরে অনুপ্রবেশ, শান্তিচুক্তি ভঙ্গ, নিষেধাজ্ঞা অমান্য এবং সরকারি কর্মকর্তাদের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা ও অজিঙ্কা শিন্ডেকে পাঁচ দিনের জন্য কারাগারে পাঠানো হয়েছে। যদিও, প্রথম থেকেই নিজেদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন সিজেপি নেতারা। স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ৮টার দিকে মন্দির মর্গ এলাকায় তাদের ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নেয়া হয়।

সম্প্রতি যন্তর মন্তরকে অনুমোদিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেয় পুলিশ। গেল মঙ্গলবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সিজেপির এই শীর্ষ নেতারা ব্যারিকেড অতিক্রম করে একটি তালাবদ্ধ গেট টপকে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করলে, তাদেরকে আটক করে পুলিশ।

আরও পড়ুন:

সিজেপি কর্মীদের কারাদণ্ডাদেশ ‘কাপুরুষোচিত’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। এক্স বার্তায় তিনি বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয়। এজন্য যুবকদের জেলে পাঠানো অত্যন্ত কাপুরুষোচিত কাজ। যন্তর মন্তরকে দেশের জনগণের সম্পত্তি দাবি করে গান্ধী আরও বলেন, যন্তর মন্তর ভারতের জনগণের। আমরা এটি পুনরুদ্ধার করবো।’

অন্যদিকে, নয়াদিল্লিতে ১৪৪ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে সোমবার বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের বিক্ষোভের জেরে চারটি এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশ সূত্র জানায়, মামলাগুলো ব্যারিকেড ভাঙা এবং রাস্তা আটকে চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা সম্পর্কিত। দুটি এফআইআর তিলক মার্গ থানায় এবং মন্দির মার্গ ও বারখাম্বা রোড থানায় একটি করে এফআইআর নথিভুক্ত হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশের ধারণা, বেশ কিছু সন্দেহজনক সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হচ্ছে। কয়েকটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে পুরোনো দাঙ্গা ও সহিংসতার কিছু ভিডিও দিল্লির সাম্প্রতিক বিক্ষোভের ফুটেজ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

ভোটার তালিকা থেকে লাখ লাখভোটারের নাম বাদ দেয়ার অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে রাজধানী দিল্লিসহ দেশজুড়ে আন্দোলন করছে বিরোধী ইন্ডিয়া জোট এবং সিজেপি। বিপরীতে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা-আখ্যা দিয়ে কংগ্রেসের সদরদপ্তরের কাছে এবং শ্রীনগরে পাল্টা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিজেপি ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো।

এফএস