বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ও যুদ্ধ: দরিদ্র দেশগুলোকে সহায়তার তাগিদ আইএমএফের

আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা
বিদেশে এখন
0

ক্রমবর্ধমান ঋণ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও যুদ্ধের প্রভাবে মূল্যবৃদ্ধির সংকটে থাকা দরিদ্র দেশগুলোর পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনের সমাপনী দিনে আজ শনিবার তিনি এ কথা বলেন।

ব্যাংককে সাংবাদিকদের জর্জিয়েভা বলেন, বৈশ্বিক নীতিনির্ধারকদের আলোচনায় একই সঙ্গে আশা ও উদ্বেগের চিত্র ফুটে উঠেছে। বিশ্ব অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের অমিত সম্ভাবনা এবং এশিয়ার গতিশীলতা আশার সঞ্চার করেছে। তবে এআই প্রযুক্তি নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি, ঋণের উচ্চ মাত্রা, যুদ্ধ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, ধনী দেশগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ালেও দরিদ্র দেশগুলো এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উল্টো বিশ্বজুড়ে উচ্চ সুদের হারের কারণে তাদের ঋণ গ্রহণের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। বর্তমানে নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে তাদের মোট রাজস্বের ৮ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে শুধু ঋণের সুদ ও কিস্তি পরিশোধে, যা আগের বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি।

মূল্যস্ফীতির প্রভাব তুলে ধরে আইএমএফ প্রধান বলেন, ‘সব দেশের মানুষই মূল্যস্ফীতি অপছন্দ করে, তবে দরিদ্র দেশগুলোর ক্ষেত্রে এটি আরও তীব্র। মূল্যস্ফীতি মূলত দরিদ্র মানুষের ওপর বাড়তি করের মতো।’

তিনি এমন এক সময়ে এ কথা বললেন, যখন বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে জ্বালানি আমদানিনির্ভর নিম্ন আয়ের দেশগুলো। গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করার পর মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টাপাল্টি আক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হয়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে।

সংস্থাটির ১৯১ সদস্যদেশের মূল নীতি নির্ধারণী কমিটি ইন্টারন্যাশনাল মনিটরি অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল কমিটির (আইএমএফসি) চেয়ারম্যান ও সৌদি আরবের অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জাদান এক বিবৃতিতে জানান, সংঘাত বৃদ্ধি ও বাণিজ্য উত্তেজনা বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌবাণিজ্য পথগুলোকে আরও বিঘ্নিত করতে পারে। এতে পরিশোধিত জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে এবং তা দরিদ্র দেশগুলোর খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে।

জর্জিয়েভা বলেন, সংকটগ্রস্ত দেশগুলোর ঋণ পুনর্গঠন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং বেসরকারি বিনিয়োগের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করা আইএমএফের দায়িত্ব। তিনি আরও জানান, নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য বাড়তি তহবিল সংগ্রহের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি।

আইএমএফ প্রধান আরও জানান, অর্থনৈতিক সংকটে থাকা ইরাককে নতুন ঋণ কর্মসূচির আওতায় অর্থ ও নীতিগত সহায়তা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ঋণ কর্মসূচি নিয়ে লেবানন কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আইএমএফের আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

এএম