আইআরজিসি জানায়, গতকাল শনিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় প্রথম ট্যাংকারটি একটি মাইনে আঘাত হানলে বিকট বিস্ফোরণ ঘটে এবং জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। এর পরপরই দ্বিতীয় আরেকটি ট্যাংকার মাইনের আঘাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কবলে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ দুটির নাম কিংবা সেগুলোতে থাকা জ্বালানি তেলের মালিকানা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজ দুটি নিজেদের ট্র্যাকিং ও রাডার ব্যবস্থা বন্ধ রেখে ইরানের অননুমোদিত জলপথ ব্যবহারের চেষ্টা করছিল। আইআরজিসির দাবি, মার্কিন সহায়তায় একটি ট্যাংকার প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করছিল এবং অন্য ট্যাংকারটি সাগরে পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে তেহরান। এরপর থেকে এই জলপথ অতিক্রমের ক্ষেত্রে ইরানের অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ব্যবহারের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হত।
চলতি সপ্তাহে আইআরজিসির নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী আজমাই সতর্ক করে বলেছিলেন, যেকোনো জাহাজ নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ রাখলে সেটিকে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অন্যদিকে ইরানের তেল রপ্তানি ঠেকাতে সাগরে পাল্টা নৌ-অবরোধ আরোপ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের সেনাবাহিনী এর আগে জানায়, গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার ওমান উপসাগরে দেশটির ঘোষিত নিষিদ্ধ অঞ্চলে আরও দুটি ট্যাংকারে আগুন লাগে। এছাড়া শুক্রবার সৌদি আরবের সমুদ্রসীমার কাছে দুটি ট্যাংকার হামলার শিকার হয়েছে বলে সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো জানিয়েছে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও এবং আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সংস্থার (আইএমও) তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার হরমুজ প্রণালির আশপাশে ছয়টি জাহাজে হামলা চালানো হয়, যা যুদ্ধ শুরুর পর এক দিনে সর্বোচ্চ হামলার ঘটনা।
নিজেদের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার জবাবে হামলা জোরদার করেছে বলে জানিয়েছে তেহরান। গত দুই সপ্তাহে এই অঞ্চলে হামলা বৃদ্ধি পাওয়ায় জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজারে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর যেখানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রায় ২ কোটি ৮ লাখ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়েছিল, সেখানে ১১ অক্টোবর তা নেমে আসে মাত্র ২৯ লাখ ব্যারেলে।
এদিকে ইরানের ওপর পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করব না।’ একই সঙ্গে ইরানে স্থলসেনা পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুদ্ধ অবসানে একটি সমঝোতা হতে পারে।





