মুছে ফেলা হচ্ছে প্যারিসের রিপাবলিক স্কোয়ারের গ্রাফিতি

ফ্রান্সের একটি রাস্তা
বিদেশে এখন
0

ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভ, লুটপাট ও কারফিউ জারির পর প্যারিসের ঐতিহাসিক রিপাবলিক স্কোয়ারের গ্রাফিতিগুলো মুছে ফেলা হচ্ছে। এটি ফ্রান্সের অন্যতম বড় ও গুরুত্বপূর্ণ চত্বর। একই সঙ্গে প্যারিসবাসীর জমায়েত, উৎসব,রাজনৈতিক বিক্ষোভ বা প্রতিবাদের প্রধান কেন্দ্রস্থল। সম্প্রতি দেশজুড়ে চলা অস্থিরতা ও দাঙ্গার কারণে প্যারিসের এ ঐতিহাসিক জায়গাটির নিরাপত্তা জোরদার হয়েছে।

সরকার বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স। প্যারিস পুলিশ রাত ৮টা থেকে রাজধানীর নির্দিষ্ট কিছু অংশে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে। এছাড়া রাত ১১টা থেকে ঐতিহাসিক রিপাবলিক স্কোয়ার ও লেস হ্যালস-এর আশেপাশে কারফিউ জারি করেছে। এবার প্যারিসের ঐতিহাসিক রিপাবলিক স্কোয়ারের গ্রাফিতিগুলো মুছে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে শহর কর্তৃপক্ষ।

প্যারিস সিটি কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত নির্বাচিত পোস্টার ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক বার্তা পরিষ্কার করার সময় সম্পূর্ণ ধ্বংস না করে প্যারিসের ইতিহাস বিষয়ক জাদুঘর কার্নাভালেট মিউজিয়াম বা শহরের অন্য আর্কাইভে সংরক্ষিত থাকে।

তবে শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঐতিহাসিক এই স্মৃতিস্তম্ভের সুরক্ষা, শহরের সৌন্দর্য পুনরুদ্ধার এবং রাজনৈতিক বা সামাজিক সহিংসতার চিহ্ন মুছে ফেলার জন্যই রিপাবলিক স্কোয়ারের গ্রাফিতিগুলো অপসারণ করা হচ্ছে।

প্যারিস কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, গ্রাফিতির রাসায়নিক রং রিপাবলিক স্কোয়ারের শতাব্দী প্রাচীন পাথুরে স্মৃতিস্তম্ভ এবং মারিয়ান ভাস্কর্যের স্থায়ী ক্ষতি করছে। সেক্ষেত্রে এই ঐতিহাসিক সম্পদ রক্ষা করা নগর প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। প্রতি বছর প্যারিস জুড়ে গ্রাফিতি ও অবৈধ ‘ট্যাগিং’ পরিষ্কার করতে সিটি হলের প্রায় ৬০ লাখ ইউরো অর্থ ব্যয় হয়। শুধু রিপাবলিক স্কোয়ারের ভাস্কর্যটি একবার সম্পূর্ণ পরিষ্কার করতে প্রায় ৪ হাজার ইউরো খরচ করতে হয়।

সম্প্রতি, বিক্ষোভকারীরা ভাস্কর্যটির গায়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বিরোধী স্লোগান, পুলিশ বিরোধী বার্তা বা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের ট্যাগ এঁকে দেয়। যা প্যারিসের আসন্ন পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি সংবেদনশীল ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। তাই পর্যটক ও নাগরিকদের কাছে প্যারিসের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখতে সচেতন প্রশাসন।

ফরাসি প্রজাতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে পরিচিত চত্বরটি ঐতিহ্যগতভাবেই বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিবাদ, বিক্ষোভ এবং শোকসভার প্রধান কেন্দ্রস্থল। সম্প্রতি বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলন ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া সহিংস বিক্ষোভে স্কোয়ারের কেন্দ্রীয় মারিয়ানে ভাস্কর্যটি অসংখ্য গ্রাফিতি ও রাজনৈতিক স্লোগানে ঢেকে যায়। এ কারণে গ্রাফিতিগুলো পরিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্যারিস সিটি কর্তৃপক্ষ।

এফএস