তাইওয়ানে টাইফুন চাম্পির আঘাত; নিহত ১, আহত পাঁচ শতাধিক

তাইফুন চাম্পি তাইওয়ানের দিকে এগিয়ে আসায় উপকূলের কংক্রিটের ঢেউ প্রতিরোধক কাঠামোয় আছড়ে পড়ছে ঢেউ
বিদেশে এখন
0

শক্তিশালী টাইফুন চাম্পির আঘাতে তাইওয়ানে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন পাঁচ শতাধিক মানুষ। ঝড়ের প্রভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

শুক্রবার টাইফুনটি তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব উপকূল অতিক্রম করে। প্রবল বাতাসে বহু গাছপালা উপড়ে গেছে, বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে পাঁচ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ৫৬ হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিল। বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করতে জরুরি উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। দুর্যোগের কারণে দেশটির উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ রাখা হয়।

ঝড়ের কারণে তাইওয়ানের আকাশপথে যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দেশটির পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার ২৫৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার প্রায় এক হাজার ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছিল। শুরুতে ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার গতির একটি ‘সুপার টাইফুন’ হিসেবে সৃষ্টি হলেও স্থলভাগে আসার আগে চাম্পি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। মার্কিন যৌথ টাইফুন সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে ঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার।

তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন (সিডব্লিউএ) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে শনিবারের মধ্যে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সর্বোচ্চ ৯০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর মধ্যে শুধু ইলান শহরেই ৬৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ লু কুও-চেন জানান, দ্বীপটির উত্তর-পূর্বাংশের কাছে এসে টাইফুনের গতি ধীর হয়ে যাওয়ায় এর ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ও প্রভাব দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

তাইওয়ান অতিক্রম করার পর টাইফুন চাম্পি এখন চীন ও জাপানের মূল ভূখণ্ডের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। জাপানের সর্বদক্ষিণের প্রিফেকচার ওকিনাওয়া দ্বীপপুঞ্জে টাইফুনের আঘাতে ইতিমধ্যে দুজন আহত হয়েছেন এবং প্রায় ৮ হাজার ৪০০ পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে চীনের পূর্ব উপকূলে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের সতর্কতা জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সতর্কতা হিসেবে সাংহাইয়ে কিছু ট্রেনের সূচি স্থগিত এবং হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মতে, প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী ‘এল নিনো’ পরিস্থিতির কারণে চলতি মৌসুমে এ ধরনের শক্তিশালী ও অস্বাভাবিক টাইফুন তৈরি হচ্ছে।

এএম