সংস্থাটি জানায়, গত অক্টোবর মাসে হুথি বাহিনী তায়েজ শহর পুরোপুরি অবরুদ্ধ করার পর সেখানকার মানবিক সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নগরীতে প্রবেশের সর্বশেষ প্রধান সরবরাহ পথটি বন্ধ ও আক্রমণ করায় খাদ্য, সুপেয় পানি, ওষুধ ও রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোও অবরুদ্ধ শহরে পৌঁছাতে পারছে না। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেখানে রান্নার এলপিজির দাম প্রায় ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
এদিকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় নগরীর চিকিৎসাসেবা ভেঙে পড়েছে। স্থানীয় চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, হাসপাতালগুলোতে এনেস্থেসিয়া, ওষুধ ও অক্সিজেনের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। পর্যাপ্ত ডিজেল না থাকায় একটি হাসপাতাল টানা তিন দিন সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়। ইয়েমেনে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়কারী লরেন্ট বুকেরা জানান, শহরটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখন পুরোপুরি ভেঙে পড়ার মুখে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক নাগরিকদের খাদ্য ও পানি আটকে অনাহারে রাখা সুস্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। সামরিক অভিযানের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেই এমন অপরাধমূলক উদ্দেশ্য স্পষ্ট বোঝা যায় বলে জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ।
সংস্থাটির ইয়েমেন ও বাহরাইনবিষয়ক গবেষক নিকু জাফরনিয়া বলেন, ‘তায়েজে খাদ্য, পানি ও ওষুধ সরবরাহ বন্ধ করতে হুথিদের নতুন এই তৎপরতা প্রমাণ করে যে তারা সাধারণ মানুষের জীবনের কোনো তোয়াক্কা করছে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘তায়েজ শহর অবরুদ্ধ করে সাধারণ মানুষের ওপর যে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় চাপিয়ে দেয়া হয়েছে, হুথিরা কোনোভাবেই তার ন্যায্যতা প্রমাণ করতে পারে না।’





