বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক ও ভোক্তা দেশ ভারত। অপরিশোধিত তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এবং রান্নার গ্যাসের সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল দেশটি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র- ইরানের যুদ্ধের জেরে চলমান অচলাবস্থায় বেশ বিপাকেই পড়ে দেশটি।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সম্প্রতি জ্বালানি ও তেল ব্যবহারে দেশবাসীকে সংযমী হওয়ার বার্তা দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এমনকি নিজের গাড়ি বহরের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনেন।
তবে, তার এমন পদক্ষেপে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার। এবার সেই আশঙ্কাই সত্যি হলো। লিটারপ্রতি পেট্রোলের দাম ৩ রুপি এবং সিএনজির বেড়েছে ২ রুপি। আজ ( শুক্রবার, ১৫ মে) থেকেই কার্যকর হয়েছে জ্বালানির নতুন এ মূল্যে। এতে ভারতের চার মেগা সিটিসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর জ্বালানির দামেও এসেছে পরিবর্তন।
আরও পড়ুন
নতুন দাম অনুযায়ী কলকাতায় পেট্রোলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে লিটারপ্রতি ১০৮ দশমিক ৭৪ রুপির আশেপাশে। ডিজেলের দাম বেড়ে হয়েছে ৯০ দশমিক ১৩ রুপি। এছাড়াও, ভারতের অন্যান্য মেট্রোপলিটন শহরের মধ্যে দিল্লিতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৯৭ দশমিক ৭৭ রুপি ও ৯০ দশমিক ৬৭ রুপি। পাশাপাশি সেখানে সিএনজি’র দাম ৮৫ রুপি থেকে বেড়ে হয়েছে ৮৭ রুপি।
এছাড়া মুম্বাইতে পেট্রোল ও ডিজেলের বিক্রি হচ্ছে যথাক্রমে লিটারে ১০৬ দশমিক ৬৮ রুপি এবং ৯৩ দশমিক ১৪ রুপিতে। চেন্নাইতে পেট্রোলের দাম বেড়ে হয়েছে ১০৩ দশমিক ৬৭ রুপি। আর ডিজেলের দাম বেড়ে হয়েছে ৯৫ দশমিক ২৫ রুপি।
এদিকে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় অসুবিধায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। তাদের অভিযোগ, এতে করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে। তেলের দাম বাড়ায় অনেকটাই সমস্যায় পরতে হচ্ছে বলে জানান জ্বালানি নিতে আসা বাইকারা।
অবশ্য জ্বালানি তেলের দাম অনেক কমই বাড়ানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের ক্যাবিনেট মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
পশ্চিমবঙ্গের ক্যাবিনেট মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘তেল কোম্পানিগুলো কোটি টাকার মতো লোকসান করছে। তারও একটা সীমা থাকতে হয়। দাম যতটুকু বাড়ানো দরকার ছিল ঠিক ততটুকুই বেড়েছে।’
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ায় তৈরি হয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা। সেই সাথে বাড়তে পারে বাস, ট্যাক্সি, উবেরসহ পরিবহন খরচ।





