এদিন সকালে কলকাতার চিনার পার্কে নিজের ফ্ল্যাটে থেকে বেরিয়ে নিউ টাউনে অবস্থিত বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা মিঠুন চক্রবর্তীর ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখা করেন শুভেন্দু অধিকারী।
পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যাদের ভূমিকা রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন তারকা প্রচারক ছিলেন মিঠুন। বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে বিভিন্ন জেলা ঘুরে প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন বলিউড অভিনেতা।
মূলত সেই কারণেই সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ ও কৃতজ্ঞতা জানাতেই এদিন মিঠুনের ফ্ল্যাটে যান শুভেন্দু, মিঠুনের শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবরও নেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে বৈঠক। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শুভেন্দু ও মিঠুন।
শুভেন্দু বলেন, ‘আমি আজকে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছি জনগণের ভোটে, তাদের আশীর্বাদে। বিজেপি আমাকে মুখ্যমন্ত্রী মনোনীত করেছে। কিন্তু নেপথ্যের কারিগরদের মধ্যে অত্যন্ত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যে কয়টি নাম আসে তার মধ্যে মিঠুন চক্রবর্তীর নাম অন্যতম। গতকাল মিঠুনদা আমাকে বলেছিলেন, “দেখা করতে চাই”। আমি বলেছিলাম, আমি আপনার সঙ্গে দেখা করতে যাবো। আপনার তৈরি করা মুখ্যমন্ত্রী আপনার কাছে আসবে।’
আরও পড়ুন:
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মিঠুনদা অত্যন্ত নিঃস্বার্থভাবে পশ্চিমবঙ্গের গত ১৫ বছরের যে বিপর্যয় সেই জায়গা থেকে বাংলাকে বাঁচানোর জন্য, রাজ্যের হৃৎ গৌরব ফিরিয়ে আনার জন্য এখানকার রাষ্ট্রবাদীদের বাঁচানোর জন্য বিশেষ করে মা, বোন, দিদি, কন্যা তাদের সুরক্ষিত করার জন্য তিনি নিরলস চেষ্টা করেছেন। তার পরিশ্রমের কোনো সীমা ছিল না।’
প্রত্যুত্তরে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, ‘আমি একটাই কথা বলবো যে, এর থেকে ভালো মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে হতে পারে না। যে মুহূর্তে উনি শপথ নিয়েছেন তার পর থেকে উনি কাজ করছেন। আমরা শুভেন্দু অধিকারীকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পেয়েছি। আগামী দিনেও একের পর এক এই যোদ্ধা লড়াই চালিয়ে যাবে। তাছাড়া আমি তো পিছনে রইলাম।’
মুখ্যমন্ত্রী ফের বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে গত পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে মিঠুন চক্রবর্তী অনেক পরিশ্রম করেছেন। উনি বিজেপির সদস্য। তিনি বাংলা গোটা ভারতবর্ষে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তার ভক্তরা কেবলমাত্র বিজেপিতে নয়, বিজেপির বাইরে রয়েছে। তিনি একজন প্রকৃত রাষ্ট্রবাদী নেতা। উনি আমার থেকে অনেক সিনিয়ার। দেখাও করলাম, আশীর্বাদও নিলাম।’
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনি প্রচারণার সময় মিঠুনদা অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সব কাজ একসঙ্গে করা সম্ভব নয়। কিন্তু আগামী তিন চার মাসে মিঠুন দা কোন কোন কাজ করতে চান, আমার কি কি কাজ করা উচিত এই সমস্ত বিষয় নিয়ে মিঠুন দার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।’
জবাবে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, ‘আমি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেগুলি পূরণ করতে হবে এবং তার আগে আমি মুখ্যমন্ত্রীকে জানাবো। মুখ্যমন্ত্রী আমাকে জানিয়েছেন আপনি এগিয়ে যান, এই কাজগুলো করুন।’
মিঠুন চক্রবর্তীকে মহাগুরু বলেও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমি অষ্টম শ্রেণির পর সিনেমা দেখিনি। কিন্তু মিঠুনদা অন্য জায়গায় রয়েছেন। মিঠুনদা মিঠুনদাই! এখনো সুযোগ পেলে ইউটিউবে, মোবাইল ফোনে মিঠুনদা কে দেখি, উনি মহাগুরু।’





