কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার ইতিহাস ও ধর্মীয় গুরুত্ব (Kailash Mansarovar Yatra Significance)
কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও বন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ এক তীর্থযাত্রা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬ হাজার ৬৩৮ মিটার উঁচু তিব্বতের কৈলাস পর্বতকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা দেবতা শিব ও দেবী পার্বতীর সুপবিত্র আবাস্থল বলে বিশ্বাস করেন। পাশে অবস্থিত মানস সরোবর হ্রদে স্নান করলে সকল পাপ দূর হয় এবং মোক্ষলাভ ঘটে বলে পুরাণে উল্লেখ রয়েছে।
১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের পর টানা ১৯ বছর বন্ধ থাকার পর ১৯৮১ সালে দুই দেশের চুক্তির মাধ্যমে এই যাত্রা পুনরায় শুরু হয়। পরবর্তীতে করোনা মহামারির কারণে বিরতি দিয়ে ২০২৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি পুনরায় চালু করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার প্রধান ৩টি রুট (Kailash Mansarovar Travel Routes)
কৈলাস পর্বত ও মানস সরোবরে পৌঁছানোর জন্য পুণ্যার্থীরা মূলত তিনটি প্রধান পথ বা রুট ব্যবহার করে থাকেন:
- ১. লিপুলেখ পাস রুট (Lipulekh Pass Route - Uttarakhand): ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও উত্তরাখন্ডের ‘কুমায়ুন মণ্ডল বিকাশ নিগম’-এর যৌথ পরিচালনায় দিল্লি থেকে শুরু হওয়া এই পথটি আলমোড়া, ধারচুলা ও গুঞ্জি হয়ে ৫,২০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত লিপুলেখ পাস দিয়ে তিব্বতে প্রবেশ করে।
- ২. নাথু লা পাস রুট (Nathula Pass Route - Sikkim): সিকিমের গ্যাংটক হয়ে নাথু লা পাস অতিক্রম করে তিব্বতে ঢোকার এই পথটিতে দীর্ঘ হাঁটার ঝামেলা কম হওয়ায় এবং গাড়িতে করে যাওয়ার সুবিধা থাকায় বয়স্কদের পছন্দ বেশি। এতে আনুমানিক ২০ দিনের মতো সময় লাগে।
- ৩. কাঠমান্ডু রুট (Kathmandu Nepal Route): নেপালের কাঠমান্ডু থেকে উড়োজাহাজে নেপালগঞ্জ বা সিমিকোট হয়ে এবং সেখান থেকে হিলসা সীমান্ত পেরিয়ে তিব্বতে ঢোকার এই পথটি সবচেয়ে জনপ্রিয়। দুর্গম পথ এড়াতে পুণ্যার্থীরা এ রুটে হেলিকপ্টারও ব্যবহার করেন। তবে সম্প্রতি এই রুটেই ভয়াবহ দুর্যোগ আঘাত হেনেছে।
কেন এই যাত্রা এত দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ? (Kailash Yatra Difficulties & Challenges)
কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় তীর্থযাত্রীদের ৪,৫০০ মিটারেরও বেশি উচ্চতায় উঠতে হয়, যেখানে বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। এর সঙ্গে প্রচণ্ড শীত, হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন, পথ পিচ্ছিল হওয়া এবং ভূমিধসের তীব্র ঝুঁকি থাকে। এই যাত্রার সবচেয়ে কঠিন অংশ হলো কৈলাস পর্বতকে ঘিরে ৫২ কিলোমিটার বিস্তৃত প্রদক্ষিণ পথ বা 'পরিক্রমা' (Kora), যার মাঝে ৫,৬৩০ মিটার উঁচু মারাত্মক দুর্গম 'দোলমা লা পাস' অতিক্রম করতে হয়।
আরও পড়ুন:
প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস, ভিসা ও আবেদনের নিয়ম (Kailash Yatra Visa & Documents)
কৈলাস-মানস সরোবরে একক বা ব্যক্তিগতভাবে ভ্রমণের সুযোগ নেই। ভ্রমণের জন্য অবশ্যই চায়না ভিসা (China Visa), তিব্বত গ্রুপ ভিসা (Tibet Group Visa) এবং স্পেশাল রিজিওনাল ট্রাভেল পারমিট আবশ্যক।
- সরকারি আবেদন (Government Track): ভারতীয় নাগরিকেরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন। এতে আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ৭০ বছর এবং নির্ধারিত শারীরিক ফিটনেস টেস্ট উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক।
- বেসরকারি ট্যুর অপারেটর (Private Tour Operators): নেপাল হয়ে প্রাইভেট এজেন্সির মাধ্যমে যেতে ভ্রমণকারীদের কমপক্ষে ৪৫ থেকে ৬০ দিন আগে পাসপোর্টের স্ক্যান কপি ও যাবতীয় নথিপত্র অনুমোদিত এজেন্সির কাছে জমা দিতে হয়।




