শান্তি আলোচনা ব্যর্থ, যুদ্ধের পঞ্চম বছরে ইউক্রেন সংকট

ভলোদিমির জেলেনস্কি সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত প্রথম শান্তি সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন
ইউরোপ
বিদেশে এখন
0

প্রায় ৪ বছর ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যুদ্ধ শুরু করা সহজ; কিন্তু শেষ করা কঠিন। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বারবার বৈঠক হলেও খুলছে না শান্তির পথ। সবশেষ সুইজারল্যান্ডে হওয়া দুদিনের বৈঠকেও হয়নি সুরাহা। শান্তি আলোচনার এমন নাটকীয়তার মধ্যেই ইউনিসেফ জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনের এক তৃতীয়াংশেরও বেশি শিশু বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

২৪ ঘণ্টাতো দূরের কথা দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার এক বছর পরও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবন্ধ করতে পারেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে হচ্ছে একের পর এক দর কষাকষি।

এরমধ্যেই ৪ বছর শেষ করে পঞ্চম বছরে গড়াতে যাচ্ছে যুদ্ধ। এমন পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা সফলের জন্য ইউক্রেনের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প। বুধবার জেনেভায় শেষ হওয়া দুইদিনের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির দাবি মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দাবি, কিছুটা অগ্রগ্রতি হলেও আলোচনা বেশ কঠিন ছিলো। এমনকি রাশিয়া টালবাহানা করছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘কিছুটা অগ্রগ্রতি হলেও এখনও পরিস্থিতি ভিন্ন। আলোচনা সহজ ছিল না। যুদ্ধবন্ধের বিষয়ে রাশিয়া ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারত। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করছে। তবে আরও আলোচনার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় জেনেভায় হওয়া শান্তি আলোচনা কঠিন হলেও; ব্যবসায়িকভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের প্রধান।

রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের প্রধান ভ্লাদিমির মেডিনস্কি বলেন, ‘দুদিন আলোচনা হয়েছে। আলোচনা কঠিন ছিলো। কিন্তু ব্যবসায়িকভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। শিগগিরই ফের আলোচনা হবে।’

যুদ্ধের সময় দখলকরা ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডের রুশ মালিকানা দাবিতেই অনেকটা আটকে আছে শান্তির পথ। ভূমিছাড় দেয়াকে মস্কোকে বিজয় উপহার দিয়ার সামিল হিসেবে দেখছে কিয়েভ। আর এটি করে প্রকৃত শান্তি অর্জন সম্ভব নয় বলেও মনে করছে ইউক্রেন। বর্তমানে দনবাসের বড় অংশসহ ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ এলাকা রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে। আলোচনার মধ্যেও ইউক্রেনীয় ভূমি দখল অভিযান মাত্রা বাড়াচ্ছে রুশ বাহিনী।

এদিকে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের দেয়া তথ্য বলছে, প্রায় ৪ বছরের রুশ অভিযানে এক তৃতীয়াংশেরও বেশি ইউক্রেনীয় শিশু বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সংখ্যার দিক দিয়ে যা প্রায় ২৬ লাখ। এরমধ্যে প্রায় ১৮ লাখ শিশু শরণার্থী হয়ে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছে।

এএম