মধ্যরাতে তীব্র বিমান হামলার শব্দে কেঁপে ওঠে দক্ষিণ লেবাননের আনান শহর। আগুনের পর ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় রাতের আকাশ। দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের চারটি গ্রাম খালি করার নির্দেশ দেয়ার পরই হামলা শুরু করে ইসরাইলি বাহিনী। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয় বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন ও স্থাপনা।
ইসরাইলিদের দাবি, লেবাননের হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী এবং গাজার স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সামরিক স্থাপনার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে তারা। হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার লক্ষ্য নিয়েছে ইসরাইল। এর জেরে লেবাননজুড়ে হামলা বাড়ার আশঙ্কা আছেন দেশটির নেতারা।
এদিকে গাজা উপত্যকায় এখনও হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। খান ইউনিস শহরে বিমান হামলায় এক শিশু ও হাসপাতালের কর্মীসহ প্রাণ হারিয়েছে বেশ কয়েকজন। ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানোর পর পাল্টা হামলার দাবি তেল আবিবের।
আরও পড়ুন:
গেল অক্টোবরে মার্কিন মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও হত্যা করা হয়েছে ৪২২ ফিলিস্তিনিকে। উপত্যকার ৫৩ শতাংশ অঞ্চল এখনো ইসরাইলিদের নিয়ন্ত্রণে। যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতেই বাস করছে ফিলিস্তিনিরা। এ অবস্থায় গেল সোমবার ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবন ধসে মারা গেছে বাবা ও ছেলে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয় ব্রিটেন। দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানে জোর দেয়ার অংশ হিসেবে লন্ডনে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলো ফিলিস্তিনের দূতাবাস। এটিকে নতুন আশার আলো হিসেবে দেখছেন ব্রিটেনে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত।
ব্রিটেনে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত হুসাম জোমলট বলেন, ‘নতুন বছরের ব্রিটিশ ফিলিস্তিনি সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সম্পর্ক শুরু হলো। ফিলিস্তিনি জনগণের স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের দীর্ঘ যাত্রায় এবং ফিলিস্তিনি জনগণের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতায় এক মাইলফলক চিহ্নিত হলো। এটি আশার দিন। এমন একটি দিন যা বিশ্বকে মনে করিয়ে দেয় যে শান্তি কেবল সম্ভবই নয়, এটি অনিবার্য।’
এদিকে গাজায় সামরিক আগ্রাসনের ঘটনা তদন্তে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রীয় কমিশন গঠনের দাবিতে তেল আবিবে বিক্ষোভ করেছে শত শত মানুষ। নেতানিয়াহু প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি জানায় বিক্ষোভকারীরা।





