ফিনিশীয়, বাইজেন্টাইন, মামলুক এবং ক্রুসেডারসহ বিভিন্ন সভ্যতার মিশেলে গড়ে উঠেছে আধুনিক লেবানন। যার প্রতিটিই মন্দির, দুর্গ, সমাধিসৌধ স্মৃতিচিহ্ন বহন করছে প্রাচীন ইতিহাসের। প্রায় পাঁচ হাজার বছরের পুরনো ইতিহাস ঐতিহ্যের স্মৃতি বহন আছে দক্ষিণ লেবাননের টায়ার শহর।
প্রাচীন ফিনিশীয় সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দু এবং ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত টায়ার শহরের বহু স্থাপনা। দক্ষিণ লেবাননের প্রধান শহর এটি। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে টায়ার শহর।
হিজবুল্লাহকে নির্মূলের নামে গেল প্রায় চার মাস ধরে লেবাননে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে টায়ার শহরের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোও। শহরটির বেশিরভাগ অংশের স্মৃতিবিজড়িত ইউনেস্কোর স্বীকৃত ঐতিহ্য মিশে গেছে মাটির সঙ্গে। তাদের হামলা থেকে রক্ষা পায়নি তীর্থস্থান ও বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনা। গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে নাবাতিয়াহ শহরের প্রাচীন বাজার এবং শত বছরের পুরনো শহরগুলো।
আরও পড়ুন:
বুলডোজার দিয়ে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়েছে অনেক স্থাপনা। ইসরাইলি দখলদারিত্বের মুখে ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্র এখনো তুলে ধরা সম্ভব হয়নি বলে জানান লেবাননের সংস্কৃতিমন্ত্রী ঘাসান সালামে।
তিনি বলেন, ‘শুধু রোমান ও ফিনিশীয় পুরাকীর্তি নয়। ঐতিহাসিক ভবন, প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সব ভবনও ধ্বংস করেছে ইসরাইলিরা। ব্যাপক আকারে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে তারা। বিশেষ করে প্রায় ৬০টি গ্রাম বুলডোজার দিয়ে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে।’
এদিকে ইসরাইল বলছে, বেসামরিক অবকাঠামোর বা প্রাচীন স্থাপনা ধ্বংস করা তাদের লক্ষ্য নয়। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে বিখ্যাত বোফোর্ট দুর্গে অস্ত্র রাখার অভিযোগ তুলেছে ইসরাইল। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত টায়ার শহর দেখলে মনে হবে যেন এটি ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত একটি শহর।
আরও পড়ুন:
লেবাননের পুরাকীর্তি দপ্তরের কর্মকর্তা আদনান ইস্তানবুলি বলেন, ‘ঐতিহাসিক বাড়িটির এই মোজাইকটি প্রায় দুই হাজার বছরের পুরনো, রোমান যুগের। এটি দেখেই আন্দাজ করা যায় ইসরাইলিরা কী পরিমাণ ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে যেন ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি পুনরুদ্ধারে সময় লাগবে। অন্তত এক বছর।’
সাংস্কৃতিক স্থাপনার ওপর এ ধরনের হামলার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কো। শহরের ডেপুটি মেয়র জানান, আন্তর্জাতিকভাবে সুরক্ষিত এই শহরকে লক্ষ্যবস্তু করা কোনোভাবেই উচিত হয়নি।
টায়ার শহরের ডেপুটি মেয়র আলওয়ান চারাফেদ্দিন বলেন, ‘টায়ার শহর ১৯৮৪ সাল থেকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত। এখানে ৫ হাজার বছরের পুরনো পুরাকীর্তি, সভ্যতা এবং সংস্কৃতি ধারণ করে আছে। এটি আন্তর্জাতিকভাবে সুরক্ষিত শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম। লেবাননের প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধারণ করে আছে এই শহর।’
ইসরাইলি হামলার জেরে বিপন্নপ্রায় বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে টায়ার শহরকে শ্রেণিবদ্ধ করার আবেদন জানিয়েছিল ইউনেস্কো। সেই আবেদন কানে তোলেনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। লেবানন সরকারের অভিযোগ, দেশের শত বছরের ইতিহাসকে স্থায়ীভাবে মুছে ফেলতে পরিকল্পিত অভিযানে নেমেছে ইসরাইল।


 coalition ride on the back of a pickup truck in Kidal-320x167.webp)


