সবুজ পাতার হলুদ কিংবা লাল হয়ে ওঠা… বাসন্তী বাতাসে তারপর তার ঝরে পড়া… জমিন জুড়ে কেবলই ঝরাপাতার গান… একই সাথে গাছে গাছে জেগে ওঠা নতুন পাতায় নতুন প্রাণের সঞ্চার… তারই সাথে পাখিদের খুনসুটি, কুহুতান।
শিমুলের সাথে প্রেম হয় কাকেরও… রক্তিম পলাশের ডালে ডালে কি যেন খুঁজে ফেরে কাঠবিড়ালি… আর এই যে গোলাপের পুরো নির্জাস শুষে নেবার আপ্রাণ চেষ্টা… সেই মৌমাছি কত নতুন ফুলের ভালোবাসায় উৎসবে মেতেছে… আরও আম কাঁঠালের ডালে ডালে নতুন ফলের আগমনী বার্তা।
ক্যালেন্ডারের পাতায় চোখ না রাখলেও প্রকৃতির এই পরিবর্তন, বলে দেয় শীতের জীর্ণতা সরিয়ে এসেছে ঋতুরাজ বসন্ত।
কবি ইরাজ আহমেদ বলেন, ‘প্রকৃতি আমাদের একটি কথা জানিয়ে যায়, সে আছে আমাদের সঙ্গে। সে থাকে। আমরা বদলে যাই, কিন্তু প্রকৃতি তার নিয়ম অনুসরণ করে। সে তার নিয়ম অনুযায়ী এখানে আচরণ করার চেষ্টা করে।’
প্রকৃতির সৌন্দর্যের ছোঁয়া লাগে রমণীর চুলের খোঁপায়… শাড়ির আঁচলে… প্রেম হয় প্রিয় পুরুষের সাথে।
এই ফাগুন শুধু প্রেম নয়, আগুন ঝরায়… এই যে 'সজনে ডাঁটায় ভরে গেছে গাছটা', তা তো মনে করিয়ে দেয় রফিক সালাম বরকত জব্বারের বিপ্লবী আত্মাকে।
তবে ঋতুরাজ বসন্তে তার ধরন পাল্টাতে শুরু করেছে। প্রভাব জলবায়ু পরিবর্তনের।
পরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ মৃত্যুঞ্জয় রায় বলেন, ‘তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে কিন্তু বসন্তের চরিত্রও বদলে গেছে। বসন্তকালে যে পরিমাণ তাপমাত্রা বা গরম থাকার কথা তার থেকে বেশি গরম। এজন্য বসন্ত কালেও এসে দেখা যাচ্ছে গ্রীষ্মের ফুল ফোটা শুরু করেছে।’