ফিরোজা না যমুনা— তারেক রহমানের সিদ্ধান্তেই চূড়ান্ত হবে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন

যমুনা ও জুলাইয়ের স্মৃতি জাদুঘর
দেশে এখন
0

প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনাকে নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসাবে প্রস্তুত করছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। তবে মায়ের স্মৃতি বিজড়িত গুলশান নাকি হেয়ার রোডের যমুনায় থকবেন তা নির্ভর করবে তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপর। গণপূর্তের নকশা অনুযায়ী গণভবনের পাশে নতুন বাসভবন নির্মাণে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিলেও শেষ হতে সময় লাগবে কয়েক বছর। অন্যদিকে মিন্টো রোডে অবস্থিত বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবন এবং মন্ত্রীদের বাসভবনও প্রস্তুত করেছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ‘গণভবন’ এখন জুলাইয়ের স্মৃতি চিহ্ন। তাই প্রশ্ন উঠছে নতুন প্রধানমন্ত্রী কোথায় থাকবেন?

দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন শেষে নির্বাচনের দেড় মাস আগে দেশে ফেরেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ওঠেন গুলশানে, ফিরোজায় মায়ের বাসার পাশে ১৯৬ নম্বর বাড়িতে।

সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাওয়া বিএনপির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান শপথ নিলে নিজ বাসায় থাকতে পারেন। তবে আবাসিক এলাকায় সরকার প্রধানের নিরাপত্তা ও গুলশান থেকে সংসদ ভবনের দূরত্ব বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর বাসস্থান পরিবর্তন হতে পারে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে সংসদ ভবন চত্বরে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনকে একীভূত করে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন করার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। তখন প্রশ্ন উঠে, তাহলে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার কোথায় থাকবেন? এছাড়া সংসদ চলাকালে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় ডিসেম্বরে সে সিদ্ধান্ত বাতিল হয়।

গত জানুয়ারিতে গণভবনের পাশেই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্মাণের জন্য নকশা চূড়ান্ত করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস লাগোয়া ওই জমির একাংশে এখন সরকারি কর্মচারীরা বসবাস করছেন। নতুন সরকার মত দিলে এখানে কাজ শুরু হবে। তবে নতুন ভবন তৈরি করতে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগবে।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মা, মেঘনা, যমুনায় বিদেশি অতিথি ও রাষ্ট্রপ্রধানরা অবস্থান করেন। অন্তর্বর্তী সরকার প্রধানসহ বিগত তিনজন তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান যমুনায় ছিলেন। কাঠামো, যাতায়াত ও নিরাপত্তা বিবেচনায় হেয়ার রোডের ৩০ নম্বর ভবনেই হতে পারে নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন।

আরও পড়ুন:

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টা যেখানে আছেন সেটিই আপাতত মনে করছি হতে পারে (প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন), আমি সিওর না। প্রাইম মিনিস্টার নিজেই সিদ্ধান্ত নিবেন ওনার জন্য কোনটি সুইটেবল হবে।’

হেয়ার রোডে অবস্থিত যমুনার পাশেই ২৯ নম্বর ভবন বিরোধীদলীয় নেতার জন্য নির্ধারিত। ব্রিটিশ আমলে আড়াই একর জায়গার ওপর নির্মিত এ বাড়িটি ফাঁকা ২৫ বছর ধরে। সবশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিরোধীদলীয় নেতা জিএম কাদের বাড়িটি বসবাস উপযোগী করতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানান। বাড়িটি সংস্কার হলেও গণঅভ্যুত্থানে সরকারের পতন হয়।

১৯৯১-৯৬ সাল পর্যন্ত তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা এ ২৯ নম্বর ভবন বাড়িতে থেকেছেন। সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে নেতা খালেদা জিয়া উঠেছিলেন। এরপর ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত কোনো বিরোধীদলীয় নেতা এ বাড়িতে ওঠেননি।

রাজধানীর মিন্টো রোড ও হেয়ার রোডে মন্ত্রীদের জন্য ১৫টি বাংলো বাড়ি আছে। এ ছাড়া বেইলি রোডে তিনটি মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্টে ৩০ জন মন্ত্রী থাকতে পারবেন। তবে মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত এসব আবাসনে কয়েকটিতে এখন থাকছেন সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতিরা। তাই মন্ত্রীদের আবাসনের সংকট থেকেই যাচ্ছে।

এদিকে ২০২৪ এর ৫ আগস্ট সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রবেশ করে ছাত্র জনতা। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই দুই স্থাপনা এরইমধ্যে সংস্কার করা হয়েছে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীপরিষদ সদস্যরা সোমবার শপথ নিবেন। সেই থেকে শুরু হবে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের নতুন যাত্রা।

এফএস