‘ঋণের বোঝা নেয়ার চেয়ে কষ্ট করে থাকা ভালো’—যে প্রসঙ্গে একথা বলেন বিদ্যুৎমন্ত্রী

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু
দেশে এখন
0

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, ‘অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, অনেক সময় তো ব্ল্যাকআউট হয়েছে, এখন তো বিদ্যুৎ জ্বলছে। আমি মনে করি, সে সময় ব্ল্যাকআউট হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু আমি আমার জনগণের ওপর কোনো বোঝা চাপিয়ে যাইনি, কোনো দায় রেখে যাইনি। এখন বিদ্যুৎ জ্বলছে, কিন্তু জনগণ ঋণের দায়ে ডুবে আছে।’

গতকাল (বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জ্বালানি বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, ‘আমার মনে হয়, ঋণের বোঝা নেয়ার চেয়ে কষ্ট করে থাকা ভালো। এখন আমরা ঋণের দায় নিয়ে বসে আছি। বিষয়টি অনুধাবন করেই আমি তখন একটি নীতি (পলিসি) তৈরি করেছিলাম। আমরা তো মাত্র পাঁচ বছর ছিলাম, ১৭ বছর তো ছিলাম না। একটি মন্ত্রণালয়ের সব কিছু ঠিকঠাক করতে সময় লাগে।’

আরও পড়ুন:

তিনি বলেন, ‘আমি যখন নীতি তৈরি করি, তখন হাতে সময় পেয়েছিলাম মাত্র দুই বছর। তখন টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করতেই হিমশিম খেতে হয়েছে। তবে যে নীতিমালা করে গিয়েছিলাম, তাতে কোনো দায়ের মধ্যে পড়তে হতো না। সেখানে ৩৫ শতাংশ বেসরকারি খাতে এবং ৬৫ শতাংশ সরকারের হাতে রাখার পরিকল্পনা ছিল। কারণ সরকার নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবে।

‘কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। বর্তমানে ৮২ শতাংশই বেসরকারি খাতের হাতে। জনগণের ওপর যেন অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, সেজন্যই আমি সেই নীতিটি করেছিলাম। কিন্তু তা মানা হয়নি। ফলে দায় আমাদেরই নিতে হয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘এখন আবার বিদ্যুতের দামও বাড়ানো যাচ্ছে না। দাম বাড়ানো না গেলে দায় আরও বাড়বে। তাই এসব হওয়ার আগেই আমরা চেষ্টা করছি বিষয়টি একটি ‘‘উইন-উইন’’ পরিস্থিতিতে নিয়ে আসতে। দেখা যাক কী হয়।

‘সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। যেসব পাওয়ার হাউস চুক্তি করে কাজ শুরু করেছে, তাদের সঙ্গে পুনরায় আলোচনায় বসতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি অবস্থানে যেতে চাই, যেখানে জনগণও লাভবান হবে এবং বিনিয়োগকারীরাও লাভবান থাকবে।’

এনএইচ