সংকটে ধুঁকছে মেডিকেল কলেজগুলো; নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপন যুক্তিসঙ্গত?

মেডিকেল কলেজ, হাসপাতালে রোগী
স্বাস্থ্য
দেশে এখন
1

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন দেয়া সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো ধুঁকছে নানা সংকটে। দক্ষ শিক্ষক, স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এসব মেডিকেল কলেজের। এমন পরিস্থিতিতে নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন জনপ্রতিনিধিরা। তবে মান নিশ্চিত না করে নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনের পক্ষে নন বিশেষজ্ঞরা।

নির্বাচনি প্রচারে ভোটারদের মন জয়ে নিজ জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অনেক প্রার্থীই।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় নির্মিত সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো ধুঁকছে নানা সংকটে। বেসিক সাইন্সের অ্যানাটমি, ফিজিওলজি ও বায়োক্যামিস্ট্রি এই তিন বিষয়ে শিক্ষক অনেক কম। সেজন্য মান নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক অ্যাক্রিডেশন কাউন্সিল।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ সেশনে ৫০০ আসনে কোনো শিক্ষার্থী পায়নি মেডিকেল কলেজ। এমন প্রেক্ষাপটে নতুন কোনো মেডিকেল কলেজের অনুমোদন না দেয়ার পক্ষে বিএমডিসি।

আরও পড়ুণ:

বিএমডিসির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রত্যন্ত অঞ্চলে যে মেডিকেল কলেজগুলো হয়েছে, সেখানে শিক্ষকের অভাব আরও বেশি প্রকট। অবকাঠামোগুলোকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারি, আর্থিক সক্ষমতা যদি আমাদের থাকে সেক্ষেত্রেও। কিন্তু আমরা শিক্ষকদের সংকটটা খুব সহজে মিটিয়ে ফেলতে পারবো বলে মনে হয় না। ফলে দুর্বল মেডিকেল কলেজ গড়ে তোলার কোনো সুযোগ নেই।’

এদিকে সবার দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে জনবল ঘাটতি থাকলে মানহীন চিকিৎসক তৈরি হলে তা পুরো স্বাস্থ্যখাতকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

শিক্ষাবিদ ও চিকিৎসাবিজ্ঞানী অধ্যাপক ডা লিয়াকত আলী বলেন, ‘যথাযথ শিক্ষক এবং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকের অভাবে যেসব ডাক্তার তৈরি হবে, তাদের হাতে যখন মানুষ স্বাস্থ্য তুলে দেয়, সেটা কিন্তু অত্যন্ত অনৈতিক বিষয় হয়ে যায়। কারণ অন্যান্য অনেকক্ষেত্রে এধরনের ঘাটতি থাকলেও যখন জীবন-মরণের প্রশ্ন তখন এখানে কোনো কম্প্রোমাইজ করার কোনো সুযোগ নেই।’

আরও পড়ুন:

দায়িত্ব নেয়ার পর নরসিংদীতে মেডিকেল কলেজ করার কথা বলেছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তবে সার্বিক বিবেচনায় এখন আর কোনো মেডিকেল কলেজ অনুমোদন দেয়া হবে না বলে জানালেন তিনি।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমি মিন করছি না, তবে অর্থের অভাবে কাজগুলো ধীরগতিতে আছে বা হচ্ছে না। যেগুলো হয়েছে সেগুলোকে আমরা রিভাইব করানোর জন্য, এই ইনভেস্টমেন্টটাকে ফ্রুটফুল করার জন্য, ইকোনোমি করার জন্য ওইদিকে চেষ্টা করছি। এ মুহূর্তে নতুন মেডিকেল কলেজ করার জন্য চিন্তাভাবনা করছি না।’

দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যখাতে জোর দেয়ার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।

এসএস