রাজধানীর ৮০ শতাংশ ফুটপাত দখলে, চাঁদা উঠছে শতকোটি টাকা

দখলকৃত ফুটপাত
দেশে এখন
0

রাজধানীজুড়ে ভূমিখেকোর মতোই সড়ক ও ফুটপাত দখল বিভিন্ন সিন্ডিকেটের হাতে। আর দখলকারীদের আশ্রয় দিচ্ছে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা। প্রতিমাসে শতকোটি টাকার চাঁদাও উঠছে এখান থেকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের সৎ ইচ্ছাই উপহার দিতে পারে ফুটপাত দখল মুক্ত বাংলাদেশ। যদিও জড়িতদের তালিকা করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস নতুন সরকারের।

নগর জুড়ে ফুটপাত ও সড়কে সারি সারি ছাতা আর ক্ষুদ্র বিপণি বিতানের চৌকির সাজসজ্জা। যেখানে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের লালসায় চাপা পড়েছে মানুষের হাঁটার অধিকার।

বিভিন্ন গবেষণা, জরিপ ও বুয়েটের তথ্য বলছে, রাজধানীর প্রায় ৮০ শতাংশ ফুটপাথই দখলে। এসব ফুটপাতের বেশিরভাগই ব্যবহার হচ্ছে ব্যবসার কাজে। এছাড়া নির্মাণ সামগ্রী বা অবৈধ পার্কিংয়ের দখলেও আছে বেশ কিছু ফুটপাত ও সড়ক। এতে শহরের ৩৮ শতাংশ মানুষ বাধ্য হয়ে মূল রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে। আর সড়কের ২৬ শতাংশ দুর্ঘটনাই যার প্রধান উৎস। এখন প্রশ্ন হলো ভয়াবহ এসব সংকটেও কাদের নেতৃত্বে দখল হচ্ছে ফুটপাত?

অনুসন্ধান বলছে, এসব ফুটপাতের বেশিরভাগই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকার সিন্ডিকেটের দখলে । আর তাদের নিয়ন্ত্রণ করছে একটি রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মীরা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে এসব ফুটপাত থেকে দৈনিক চাঁদা উঠলেও এখন উঠছে মাসিক কিস্তিতে। প্রতি মাসে যার পরিমাণ শতকোটিরও বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফুটপাত দখলের পেছনে সব থেকে বড় শক্তি এই রাজনীতি। প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তারাও আছেন এর সঙ্গে। আর নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্প নয়, সংস্কারেই মনোযোগী হতে হবে সরকারকে। ফুটপাতের প্রকৃত হকারদের তালিকা করে পুনবার্বাসন কিংবা সরকারি সুবিধার আওতায় আনা যেতে পারে৷ আর দখলদারদের আনতে হবে আইনের আওতায়।

আরও পড়ুন:

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘এই সমস্যা কিন্তু কোনো টেকনিক্যাল সমস্যা না, এটা একটা রাজনৈতিক সমস্যা এবং এ সমস্যার সমাধানের পৃষ্ঠপোষকতা শুরু করতে হবে রাজনৈতিক সরকারের মাধ্যমেই।’

নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল বলেন, ‘ফুটপাতের হকার কারা কখন বসেছেন সেটা যদি আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী চিহ্নিত করতে না পারি তাহলে হকারের সংখ্যা তো বাড়তেই থাকবে। আর ঢাকা তো সারা বাংলাদেশের হকার নিতে পারবে না।’

যদিও এখনি উচ্ছেদ নয় হকারদের ভিন্ন কর্মস্থলের বিষয়ে ভাবছে দায়িত্বরা। ঈদের পরেই ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস নগর প্রশাসকের।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম প্রশাসক বলেন, ‘এই প্রান্ত্রিক জনগোষ্ঠীর যারা এভাবে জীবিকা গ্রহণ  করছে তাদের জন্য একটা বিকল্প ব্যবস্থা আমাদের পরিকল্পনায় নিয়ে আসতে হবে। আমরা এটা নিয়ে ভাবছি।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, ‘এখন রোজার মাস চলছে সামনে ঈদ আছে। এই ঈদের পর থেকে আমরা সকল পর্যায়ে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালাবো যাতে সবকিছু সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে আগামীতে পরিচালিত হতে পারে।’

প্রতিবার নির্বাচনি ইশতেহারের নগর দখলমুক্ত করার আশ্বাস দিলেও কথা রাখতে দেখা যায়নি বিগত কোনো সরকারকেই। তবে নতুন সরকারের হাত ধরে সড়ক কতটা নিরাপদ হবে, এই অরাজকতা থেকে মুক্তি মিলবে কি না? অপেক্ষা আপাতত করতেই হচ্ছে।

এএম