সংবিধান পরিবর্তন নিয়ে আইনসভায় নতুন বিরোধ। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ আদেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, এই আইনকে অন্তহীন প্রতারণার দলিল বলে মন্তব্য করেন। আর জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন আইনমন্ত্রী।
তবে সরকারি দলের এই প্রস্তাবে মঙ্গলবার বিরোধী দল সমর্থন জানালেও পরদিন তা প্রত্যাখ্যান করেছে বিরোধী দল। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, সংশোধন করে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, বিচারবিভাগ বিকেন্দ্রীকরণ কিংবা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করা হলে পরবর্তী বাতিল হতে পারে। তাই সংবিধান সংস্কার বিষয়ক বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন তারা। একই সঙ্গে কমিটিতে সরকার ও বিরোধী দরের সমান সংখ্যক সদস্য রাখার দাবি তাদের। বুধবার এসব কথা বলেন জামায়াত ও এনসিপির নেতৃবৃন্দ।
ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দেশে প্রচলিত সাংবিধানিক যে আইনটি রয়েছে তার আলোকে সংবিধানের বেসিক ফিচার দুই তৃতীয়াংশ মেজরিটির বলে সংশোধন করতে পারেন না। এজন্য আমাদের সংবিধানকে সংস্কার করতে হবে। সেক্ষেত্রে আপনি যদি সংবিধান সংস্কার কমিটি করেন সেখানে আমাদের অংশগ্রহণ করা তো কঠিন।’
আরও পড়ুন:
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘যে মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তনের কথা আমরা বলছি যেমন- প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল ১০ বছর হওয়া, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নতুন ফর্মুলা উচ্চকক্ষ অনুযায়ী হওয়া, সাংবিধানিক যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে সেখানে নিয়োগের জন্য আলাদা আলাদা বডি থাকা। এই প্রতিটা বিষয়ে আমরা যদি সত্যিকার অর্থে একটা কাঠামোগত পরিবর্তন চাই সেক্ষেত্রে এটাকে টেকসই করার জন্য গাঠনিক পরিবর্তন সমৃদ্ধ একটা বডি প্রয়োজন যেটা কোনোভাবেই সংশোধনীর মাধ্যমে সম্ভব নয়।’
তবে বর্তমান সংবিধানকে ভিত্তি ধরেই প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে চায় সরকারি দল। সরকারদলীয় চিফ হুইপ জানান, আনুপাতিক হারে ১৫-২০ জন সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি আইন বিশেষজ্ঞরা থাকবেন গঠিত কমিটিতে। যেখানে সব বিষয়েই আলোচনা হবে।
চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘সরকারের অত্যন্ত সদিচ্ছা আছে যে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। আমাদের অনেক কিছুই করতে হবে। কাজেই সে সংবিধান সংশোধন করার জন্য একটা কমিটি করতে হবে। সেটা হলো আমরা সকল দলের রিপ্রেজেন্টেটিভ রাখতে চাই। তারপরে আনুপাতিক হারে বিরোধীদলের রিপ্রেজেন্টেটিভ যারা থাকে। স্বতন্ত্র থেকেও আমরা এক দুইজনকে রাখতে চাই। সকলের মতামত নিয়ে আমরা একটা সংবিধান সংশোধন কমিটি করবো।’
বুধবার সকালে সংসদ কমিটির তৃতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে ১০ এপ্রিলের মধ্যে এমপিদের আবাসন ব্যবস্থার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি চিকিৎসা কেন্দ্র, সুপেয় পানি ও ইন্টারনেট ব্যবস্থা এবং সাউন্ড সিস্টেম সমস্যার সমাধান নিয়ে গঠিত কমিটির অগ্রগতির খোঁজ খবর নেন সংসদীয় কমিটির সদস্যরা।





