জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘তবে গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ চাহিদার সময় প্রাথমিকভাবে জ্বালানির ঘাটতি, সঞ্চালন এবং ঝড়-বৃষ্টির সময় রক্ষণাবেক্ষণের কারণে কিছুটা বিভ্রাট ঘটে। যদিও চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। বিদ্যুৎ চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে। গ্রাহকের চাহিদা পূরণে বন্ধ বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর জন্য কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছি।’
‘আদানি গ্রুপের সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তি এখন গলার কাঁটা’
ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে করা বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি নিয়ে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যে চুক্তি সই হওয়ার তথ্য সামনে আসায় এখন আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত বা দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিটি পুনর্বিবেচনার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। অস্বাভাবিক শর্ত ও উচ্চমূল্যের কারণে এ চুক্তিটি এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন:
সংসদে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
মন্ত্রী বলেন, ‘২০১৭ সালে ভারতের আদানি পাওয়ার (ঝাড়খণ্ড) লিমিটেডের সঙ্গে করা চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটিতে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টরা ছিলেন। তারা চুক্তিটির প্রতিটি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেছেন।’
আরও পড়ুন:
কমিটির পর্যালোচনায় উঠে এসেছে যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সম্পাদিত এ চুক্তিতে বিদ্যুতের দাম তৎকালীন দেশিয় ও আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় অনেক বেশি ধরা হয়েছে। পর্যালোচনার প্রয়োজনে আন্তঃদেশীয় চুক্তি বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতামতও নিয়েছে কমিটি।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘অস্বাভাবিক শর্ত ও উচ্চমূল্যের কারণে এ চুক্তিটি এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান সরকার এখন দুটি পথ বিবেচনা করছে। ১. আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে চুক্তির বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্ত হওয়া। ২. দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে আদানি পাওয়ারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির শর্তগুলো সংশোধন ও বিদ্যুতের দাম কমানোর উদ্যোগ নেয়া।’
আরও পড়ুন:
তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দেশের স্বার্থরক্ষায় যা যা প্রয়োজন, সরকার সেই পদক্ষেপই নেবে।’
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে করা ২৫ বছর মেয়াদি এ চুক্তির আওতায় ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানির কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে শুরু থেকেই এই চুক্তির স্বচ্ছতা ও উচ্চমূল্য নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ছিল।





