জ্বালানি সংকটে তিন মাস নতুন যান কেনা বন্ধ, বিদেশ প্রশিক্ষণ স্থগিত

মন্ত্রিসভার বৈঠক
দেশে এখন
1

জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে আগামী তিন মাসের জন্য নতুন যানবাহন কেনা বন্ধ এবং সরকারি অর্থায়নে বিদেশে প্রশিক্ষণ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি। গতকাল (বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে রাত ১২টার দিকে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘সরকারি অর্থায়নে সব বৈদেশিক প্রশিক্ষণ পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। ব্যয় নিয়ন্ত্রণে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণও ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনা হয়েছে। সেই সঙ্গে সরকারি কোনো নতুন যানবাহন, জলযান বা আকাশযান ক্রয় করা হবে না। কম্পিউটারসহ অন্যান্য সরঞ্জাম কেনাও বন্ধ রাখা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সভা-সেমিনারের ব্যয় ৫০ শতাংশ হ্রাস এবং জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ ব্যয়ও ৩০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

ড. নাসিমুল গনি বলেন, ‘চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ তেল আমদানিনির্ভর হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারের প্রভাব সরাসরি পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং কাজাখস্তান থেকে জ্বালানি আমদানির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’

আরও পড়ুন:

তিনি বলেন, ‘জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী রোববার থেকে সব অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সময়সূচি সম্পর্কে রোববার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ব্যাংকিং কার্যক্রম চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। সব ধরনের মার্কেট ও শপিং মল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে জরুরি সেবা যেমন খাদ্য ও ওষুধের দোকান এ সিদ্ধান্তের বাইরে থাকবে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এসব সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং মনিটরিং জোরদার করা হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ভবিষ্যতে আরও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

এসএস