ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

ময়মনসিংহ
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন
এখন জনপদে , শিক্ষা
দেশে এখন
0

ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ (সোমবার, ৬ এপ্রিল) ময়মনসিংহ শিক্ষাবোর্ড এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলের মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। এর আগে সকাল পৌনে ১১টা থেকে নগরের টাউন হলের অ্যাডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে এই সভা শুরু হয়।

সভায় শিক্ষামন্ত্রী বক্তব্য শুরুর সময় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে শিক্ষকরা অসৌজন্যমূলক আচরণ করলে মন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট করে গণমাধ্যমকর্মীরা চলে যান। পরে বিকেল ৪টার দিকে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের শহিদ শাহাবুদ্দিন মিলনায়তনে সাংবাদিকদের ডেকে অনুষ্ঠান সম্পর্কে কথা বলেন মন্ত্রী।

এসময় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা শিক্ষকদের চিহ্নিত করে শিক্ষা বোর্ড ও জেলা পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এসময় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ এবং সিটি প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘পাকিস্তান আমলে হওয়া বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দেখিয়েই যাচ্ছে সবাই। বিভাগীয় শহর হিসেবে ময়মনসিংহে একটি বিশ্ববিদ্যালয় দরকার। ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে। পাশাপাশি আরও একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় করা যায় কিনা সেটিও দেখা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:

তিনি বলেন, ‘এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা শিক্ষাবর্ষের মধ্যেই শেষ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বর্তমান ব্যবস্থায় অতিরিক্ত ছয় মাস সময়ে চলে যায়।’

পরীক্ষায় নকলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এবার পরীক্ষায় নকল হবে না এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস। কারণ সরকারের ওপর নির্ভর করে নকল করা। এই শিক্ষকরাই নকল বন্ধ করেছিল, এই শিক্ষকরাই নকল করিয়েছে। ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইনে এখন আর কাউকে শাস্তি দেয়া যায় না, সেখানে কিছু নেই। এই আইন সংশোধনের জন্য কাজ চলছে। সেখানে ডিজিটাল আইন ঢুকাতে হবে। নকল করায় ছাত্রকে, শিক্ষককে শাস্তি দিচ্ছেন কিন্তু কেন্দ্র পরিদর্শককে শাস্তি দিচ্ছে না। কেন্দ্রের বেঞ্চের নিচে বাথরুমে নকল ঢুকিয়ে রাখে, এটি কে করে? নিশ্চয়ই অথরিটি করে। বাইরে থেকে মন্ত্রী-এমপিদের লোকজন মব করে নকল সাপ্লাই দিলে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে।’

এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মেট্রোপলিটন এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে একদিন অনলাইনে একদিন অফলাইনে ক্লাস শুরুর বিষয়ে এখনও আলোচনা চলছে। সেটি নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। আগামী বুধবার স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনার পর বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে। পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত।’

আরও পড়ুন:

তিনি বলেন, ‘১৯৮০ সালের আইন অনুযায়ী আপনি কখনো খাতা দেখতে পারবেন না। আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি খাতার ওপরের ওএমআর ঠিক রেখে ভেতরের পাতা পাল্টে ফেলা হয়। এভাবে অনেক শিক্ষার্থীর জীবনে ভাগ্যের বিভ্রাট ঘটেছে। সেজন্য আমি ১৯৮০ সালের আইনে পুরোপুরি খাতা দেখার বিধান আমি যুক্ত করেছি। আমি রেন্ডম স্যাম্পলিং করবো। ধরেন ময়মনসিংহ বোর্ড থেকে ৫০টি খাতা নিয়ে রেন্ডমলি নিয়ে দেখবো পরীক্ষক ঠিকমতো খাতা দেখেছে কী না। আগামী দিনে খাতা পরিবর্তনের যেন আর সুযোগ না থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সংস্কৃতি ও খেলাধুলা থাকবে সেজন্য সব ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অযাচিতভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান যেন চার্জ না নিতে পারে সেটিও মনিটর করা হচ্ছে।’

ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মীর সভাপতিত্বে সভায় ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আমনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিঞা মো. নূরুল হক, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান, ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এসএস