আজ (বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মুহাম্মাদ আলী আছগারের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে আইনমন্ত্রী এ কথা জানান। এসময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনের সভাপতি করেন।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মামলা দায়েরের সময় এজাহারে অভিযুক্তের দলীয় পরিচয় উল্লেখ থাকে না। ফলে সারা দেশে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নিরূপণ করা সম্ভব নয় এবং এ-সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই।’
আরও পড়ুন:
তবে, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১,৪২,৯৮৩টি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। ফ্যাসিস্ট আমলে জামায়াতের নেতাকর্মীদের নামে কতটি মামলা দায়ের হয়েছে, সে-সংক্রান্ত পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই।
মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ৫ মার্চ রাজনৈতিক কারণে দায়ের হওয়া হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারের সুপারিশ করার লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সভাপতিত্বে ৪ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে। মামলা প্রত্যাহারের আবেদনপত্র, এজাহার এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে চার্জশিটের সার্টিফাইড কপি এবং পাবলিক প্রসিকিউটরের মতামত পর্যালোচনা করে মামলাটি রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছে, জনস্বার্থে মামলা চালানোর প্রয়োজনীয়তা নেই এবং মামলা চালালে রাষ্ট্রের ক্ষতি হবে মর্মে পরিলক্ষিত হলে উক্ত কমিটি মামলা প্রত্যাহারের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করবে।’
তিনি বলেন, ‘জেলা কমিটির কাছ থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মামলা প্রত্যাহারের কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য সরকার গত ৮ মার্চ আইন মন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করেছে। এ পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে দায়ের হওয়া হয়রানিমূলক মোট ২৩,৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। যেসব হয়রানিমূলক মামলা এখনো প্রত্যাহার হয়নি, সেগুলো প্রত্যাহার করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’




