নাব্য সংকটে পায়রা বন্দর: গভীরতা কমেছে ৪ মিটার, বড় জাহাজ ভেড়ায় বাধা

পায়রা সমুদ্র বন্দর
এখন জনপদে
দেশে এখন
0

দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর পায়রার গভীরতা সাড়ে ১০ মিটার থেকে কমে হয়েছে ৬ মিটার। এতে পায়রা বন্দরে আগের মত বড় জাহাজ ভিড়তে পারছে না। মেইনটেনেন্স ড্রেজিং বন্ধ বিষয়ক একটি ডিপিপি একনেকে পাঠানো হয়েছে। এটি পাশ হলে পায়রা বন্দরে আবার বড় জাহাজ ভেড়ার সক্ষমতা হবে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

দেশের তৃতীয় অর্থনৈতিক গেটওয়ে হিসেবে পায়রা সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করা হয়েছিলো। বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলে পানির গভীরতা ও জোয়ারের সহায়তায় সর্বোচ্চ সাড়ে ৭ মিটার নাব্যতার জাহাজ চলাচল করতে সক্ষম। কিন্তু বড় জাহাজের চলাচলের সুবিধার জন্য ক্যাপিটাল ও মেইনটেনেন্স ড্রেজিং করে গভীরতা সাড়ে ১০ মিটার করা হয়েছিলো। তবে গত দুই বছর মেইনটেনেন্স ড্রেজিং না থাকায় পলি জমে কমেছে চ্যানেলের গভীরতা। এ কারণে পায়রা বন্দরে জাহাজের চলাচলও আগের চেয়ে কমেছে বলে জানান বন্দরের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

পায়রা বন্দরের উপ-পরিচালক আজিজুর রহমান বলেন, ‘প্রাকৃতিকভাবে ধীরে ধীরে পলি পড়তে পড়তে প্রায় দুই বছর এখন এটার গভীরতা অনেকটাই কমে গেছে। আমাদের যে হাইড্রোগ্রাফি বিভাগ আছে পায়রা পোর্টের, প্রতি সপ্তাহেই এটা একটা জরিপ করা হয় যে গভীরতা কোন পর্যায়ে আছে।’

বিশ্বের সকল বন্দরের জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত ড্রেজিং করা হয়। পায়রা বন্দরেও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে মেইনটেনেন্স ড্রেজিং চালু রাখা প্রয়োজন ছিল বলে জানান এই কর্মকর্তা।

পায়রা বন্দরের উপ-পরিচালক আজিজুর রহমান বলেন, ‘দুই বছর আমাদের মেইনটেনেন্স ড্রেজিং করতে না পারার কারণে বর্তমানে আমাদের নাব্যতাটা একটু কমে গেছে যার কারণে মাদার ভেসেল সরাসরি আমাদের জেটিতে আসতে পারছে না।’

পায়রা বন্দরের চ্যানেল সাড়ে ১০ মিটার গভীরতায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ চলাচল করা সম্ভব। এই বিবেচনায় পায়রা বন্দরের ক্যাপিটাল ড্রেজিং এর জন্য একটি প্রকল্প একনেকে পাঠানো হয়েছে। এটি পাশ হলে ড্রেজিং এর কাজ আবারও শুরু হবে বলে জানায় বন্দর কর্তৃপক্ষ।

পায়রা বন্দরের সদস্য কমোডর জামাল চৌধুরী বলেন, ‘জাহাজটা ভেড়ানো বা জাহাজ আসার জন্য যে আমাদের চ্যানেলটাকে ড্রেজিং করা দরকার এটার ডিপিপিটা আমরা অনেক আগেই পাঠিয়েছিলাম। আমাদের প্ল্যান ছিল জুনে আমরা অপারেট করব। আপনার একনেক পর্যন্ত গিয়েছিল, বাট একনেক থেকে কিছু কোয়েরিজ দিয়ে আমাদের কাছে আবার উত্তরের জন্য পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।’

পায়রা বন্দরে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২৩টি বিদেশি জাহাজ এসেছিলো। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসেছে ৮৫টি। আর ২০২৫-২৬ এর এপ্রিল পর্যন্ত জাহাজ এসেছে মাত্র ২৯টি।

পায়রা বন্দরের জেটিতে এখন অনেকটাই সুনশান নীরবতা। জেটিতে জাহাজের আনাগোনা আগের চেয়ে কমার ফলে বেড়েছে পণ্য পরিবহন ব্যয়। বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, প্রতি টনে ব্যয় বেড়েছে ১৪ থেকে ১৫ ডলার। আর এ সমস্যা সমাধানে এখানকার যে চ্যানেলটি রয়েছে এটি ড্রেজিং করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইএ