বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পিডিবির

বাংলাদেশ রেগুলেটরি কমিশনের উদ্যোগে গণশুনানি
দেশে এখন
0

বিদ্যুতের দাম ২১ থেকে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে পিডিবি। রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে গণশুনানির প্রথম দিনে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে পক্ষে বিপক্ষে চলে যুক্তি উপস্থাপন। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের জেরে চলতি অর্থবছর ঘাটতির পরিমাণ ৬৩ হাজার কোটিতে দাঁড়াতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হয়। তবে প্রতি ইউনিটে দেড় টাকা বাড়ালে ঘাটতি কমবে সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি।

জ্বালানি তেল ও এলপি গ্যাসের পর এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) উদ্যোগে শুরু হয়েছে দুই দিনের গণ-শুনানি।

রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে গণ-শুনানির প্রথম দিনে সকালে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে পক্ষে বিপক্ষে চলে যুক্তি উপস্থাপন। এতে পিডিবির পক্ষ থেকে বিদ্যুতের দাম ২১ থেকে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে গণ-শুনানিতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড তাদের প্রস্তাবে জানায়, বর্তমানে প্রতি ইউনিটের পাইকারি দর ৭ টাকা ৪ পয়সা। সেখানে গত অর্থবছরে গড় খরচ ১৩ টাকা ১৯ পয়সা। এতে বছরে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের জেরে চলতি অর্থবছর ঘাটতির পরিমাণ ৬৩ হাজার কোটিতে দাঁড়াতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হয়। তবে প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা দাম বাড়ালে ঘাটতি কমতে পারে ১৩ হাজার ২৯৮ কোটি, আর ১ টাকা ৫০ পয়সা হারে দর বাড়ালে ঘাটতি কমবে সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, কমিশন আশা করে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষই ধৈর্য ও সহনশীলতার মাধ্যমে গণ-শুনানিতে সশরীরে অংশগ্রহণ করবেন এবং একটি সফল ও কার্যকর গণ-শুনানি পরিচালনায় কমিশনকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করবেন।

আরও পড়ুন:

বিপিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, প্রায় তিন গুণ আমাদের এই গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমরা কিন্তু বিদ্যুতের রেট যে পর্যায়ক্রমে এটার সাথে যেটা অ্যাডজাস্টমেন্ট হওয়ার কথা ছিল, এটা কিন্তু আমরা করতে পারি নাই।

এদিকে, পিডিবির দাম বাড়ানোর প্রস্তাবকে অগ্রহণযোগ্য বলছে ভোক্তা অধিকার, ক্যাব, শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ দাম বাড়লে জীবনযাপনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে সরকারকে ভর্তুকি দেয়ার সুপারিশ দেন তারা।

গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন, ১১ বছর পরেও কিন্তু আমার মার্জিন একই। কিন্তু এর মাঝখানে কতবার বিদ্যুতের দাম বেড়েছে সেটা নিশ্চয়ই আপনারা ভালো জানেন আমার চেয়ে। কিন্তু সেটা অ্যাডজাস্টমেন্ট কীভাবে হবে? আজকে যদি বিদ্যুতের দাম বাড়ে, তাহলে তার ইফেক্ট এটা আমরা সবাই জানি। আপনারা এক লাইনে যতই বলেন অর্থের উন্নতি বা অর্থনৈতিক, সেটা না। আমাদের শিল্প-কলকারখানা থেকে শুরু করে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে, ভয়াবহ অবস্থা হবে।

এর আগে, সবশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়। তখন খুচরায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পাইকারিতে ৫ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছিল।

ইএ