ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহমিদার হাতের মুঠোফোনটি ফাইভ-জি প্রযুক্তি সমর্থিত। দেশে যে তিনটি মুঠোফোন কোম্পানি ফাইভ-জি সেবা দেয় তার একটি অপারেটরের গ্রাহক তিনি। বেশিরভাগ অপারেটরের ফাইভ-জি কাভারেজ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় থাকলেও গতি নিয়ে রয়েছে আক্ষেপ।
শিক্ষার্থীদের একজন বলেন, ‘টেলিটকে ব্রাউজিং এক্সপেরিয়েন্স খুব বেশি খারাপ না। তবে যেহেতু নেটওয়ার্ক স্লো থাকে, অলওয়েজ দেখা যায় ক্যাম্পাসে থাকলে রবিকে প্রেফার করি। তখন টেলিটক ইউজ করা কম করি।’
অন্যান্য মুঠোফোনগুলো কতোটা পাচ্ছে ফাইভ-জি সেটাও আমরা দেখতে চাই। কোনোটিতে ফাইভ-জি পাওয়া গেলেও বেশিরভাগ মুঠোফোনেই পাওয়া গেল ফোর-জি। গ্রাহকরা বলছেন, তাদের মুঠোফোনগুলো ফাইভ-জি প্রযুক্তি সমর্থিত হলেও তাদের সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে ফোর-জিতেই।
অন্য আরেকজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘স্পিড ভার্সিটি ক্যাম্পাস এরিয়া মোটামুটি ভালো পেয়েছি। বাট লোকাল যে রেসিডেন্সিয়াল এরিয়া, ওখানে তেমন ভালো আসেনি আরকি।’
দেশে রবি, গ্রামীনফোন ও টেলিটক মূলত ফাইভ-জি সেবা দিচ্ছে। তবে দেশের বেশিরভাগ এলাকায় এখনো যায়নি ফাইভ-জি। মূলত আইওটি, স্মার্টকারখানা ও স্বয়ংক্রিয় শিল্প খুব বেশি না থাকায় ফাইভ-জি খুব বেশি কাজে লাগছে না। তাই অপারেটরদেরও সেদিকে মনোযোগ কম। রবি আজিয়াটা বলছে, যদিও তাদের নেটওয়ার্কে মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ গ্রাহকের ফাইভ-জি সমর্থিত ফোন; তবুও তারা দেশের প্রায় ২০০ স্পটে দিচ্ছে ফাইভ-জি সেবা।
আরও পড়ুন:
রবির চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, ‘প্রায় ২০০ এর কাছাকাছি জায়গায় আমরা এখন ফাইভ-জি দিচ্ছি এবং এটা প্রতিনিয়তই বাড়ছে। কারণ আমাদের ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যানের সঙ্গে সঙ্গে এটা হবে। বাট আপনাকে একটু আগেই যেটা বলেছি যে, এটা সম্পূর্ণভাবে ডিপেন্ড করে ফাইভ-জির মাইগ্রেশনটা কিভাবে হচ্ছে, ডিভাইস পেনিট্রেশনটা কিভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, সার্ভিস সলিউশনগুলো আসছে কিনা। এবং সেভাবে আমরা সেটার তালে তালেই আমরা যাব।’
দেশে ফাইভ-জি সেবার মুঠোফোন মাত্র ৬ থেকে ১০ শতাংশের মতো। তাই গত ছয় মাস আগে এই সেবা চালু হলেও দেশে ফাইভ-জি ফিচারের ফোন কম থাকায় এই সেবার আওতা তেমন বাড়েনি। তাই চারটি অপারেটরের মধ্যে ফাইভ-জি চালু না করা একমাত্র অপারেটর বাংলালিংক বলছে, মানসম্মত ফোর-জি সেবার দিকেই নজর দিচ্ছেন তারা।
বাংলালিংকের চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, ‘ফোর-জি এখনও কিন্তু হ্যান্ডসেট যদি বলি ৫৫ থেকে ৬০ পার্সেন্ট আছে। ফাইভ-জি কিন্তু ৫ পার্সেন্টও নাই। সো ফোর-জিটা যদি সবার জন্য দেয়া যায় এবং ফোর-জি হ্যান্ডসেটও কিন্তু একটু ফাইভ-জি হ্যান্ডসেট অনেক দাম। আই থিংক দ্যাটস আ চ্যালেঞ্জ। ফোর-জি হ্যান্ডসেটও কিন্তু আমি যদি দেখি স্মার্টফোন কিন্তু ৮ হাজার, সাড়ে ৮ হাজার টাকার নিচে নাই। ওটাই মিনিমাম। সো এইটাও কি কিভাবে কমানো যায়।’
প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, ৬ মাসের বেশি সময় পার হলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবা এখনো পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। তাই মুঠোফোনের দাম কমানো ও ফাইভ-জি প্রযুক্তি বৃদ্ধির দিকে নজর দিতে হবে সরকারকে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ টি আই এম নুরুল কবির বলেন, ‘ফাইভ-জি একটা অনেক বড় আশার জায়গা। ফাইভ-জি দিয়ে অনেক ব্রড অনেক অনেক ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি হবে। সো ওইটা আমার কাছে মনে হয় অপারেটররা হয়তো পাইলোটিং করছে। আল্টিমেটলি এটা ডেপ্লয় করতে পারেনি এখনও।’
এডিবি বলছে, দেশে মানসম্মত ইন্টারনেট ব্যবহার ১০ শতাংশ বাড়লে জিডিপিতে প্রভাব পড়ে প্রায় দশমিক ৮ থেকে ১ শতাংশ পর্যন্ত। তাই এ খাতের দিকে নজর দেয়ার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের।





