সড়কে এআই মামলার ভয়ে অসদুপায় অবলম্বন করলে কঠোর ব্যবস্থা: ডিএমপি

ডিএমপির সংবাদ সম্মেলন
দেশে এখন
0

রাজধানীর সড়কে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ভিত্তিক ট্রাফিক মনিটরিং ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে কোনো ধরনের অসদুপায় অবলম্বন না করে সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

গতকাল (মঙ্গলবার, ২ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান এ আহ্বান জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা শিগগিরই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবো। যেসব যানবাহনের নম্বর প্লেট অস্পষ্ট, ভাঙা, বিকৃত অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে আংশিক ঢেকে রাখা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, ‘এআই প্রযুক্তি নম্বর প্লেট শনাক্তকরণের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন প্রয়োগে সহায়তা করে। কিন্তু নম্বর প্লেট অস্পষ্ট বা বিকৃত হলে তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।’ তিনি আরও জানান, আগে শুধু নম্বর প্লেট সংক্রান্ত অপরাধে মামলা দায়ের করা হলেও এখন চালক ও মালিক উভয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি ডিমেরিট পয়েন্ট পদ্ধতিতে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে পয়েন্ট কাটা হবে এবং আইন অনুযায়ী জরিমানা আরোপ করা হবে।

আরও পড়ুন:

সংবাদ সম্মেলনে এআই ফাঁকি দেয়ার একটি অভিনব প্রতারণার ঘটনা তুলে ধরে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও নজরে আসে, যেখানে দেখা যায় এক মোটরসাইকেল চালক নম্বর প্লেটের শেষ তিনটি সংখ্যা ইচ্ছাকৃতভাবে ঢেকে রেখে সড়কে চলাচল করছেন।

বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করে ডিএমপির সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগের একটি টিম। তদন্ত শেষে জানা যায়, গত ১৯ মে দুপুর আড়াইটার দিকে তেজগাঁও থানার কারওয়ান বাজার ক্রসিং এলাকায় মো. লাবলু হক নামের এক ব্যক্তি তার মোটর বাইকের নম্বর প্লেটের (ঢাকা মেট্রো ল-১৬-৩৬৫৯) শেষের তিনটি ডিজিট সাদা স্কচটেপ দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন। এই অপরাধে মঙ্গলবার তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হলে আদালত সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ৭২ ধারা মোতাবেক তাকে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আরও বলেন, ‘এআইকে ফাঁকি দেয়ার এই অভিনব কৌশল কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মামলা দেয়া, জরিমানা করা কিংবা কাউকে শাস্তি দেয়াই আমাদের মূল উদ্দেশ্য নয়। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো মানুষকে সচেতন করা, যাতে সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে আইন মেনে চলে। তবে কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে আইন অমান্য করেন, সেক্ষেত্রে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এএম